মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের সময় ঘুমিয়ে পড়া থেকে জাগিয়ে রাখতে এক নারীকে বিশেষভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে—সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন একটি অদ্ভুত দাবি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে বিভিন্ন তথ্য যাচাই করে দেখা গেছে, চাঞ্চল্যকর এই দাবির পক্ষে বাস্তবে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। পুরোটাই নেটিজেনদের নিছক গুজব ও রসিকতা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই জল্পনার সূত্রপাত গত ১০ আগস্ট ওভাল অফিসে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে। ওই অনুষ্ঠানের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে ট্রাম্পের চোখ বারবার বন্ধ হয়ে আসতে দেখা যায়। একই ভিডিওতে ট্রাম্পের ঠিক পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা এক নারীকে কয়েকবার নিজের পেটের কাছে হাত নিতে দেখা যায়। এরপরই নেটিজেনদের একাংশ দাবি করতে শুরু করেন যে ওই নারীর কাছে একটি বিশেষ ‘বাজার’ বা সতর্ক করার যন্ত্র রয়েছে। ট্রাম্পের চোখ বন্ধ হয়ে এলেই তিনি সেটিতে চাপ দিয়ে প্রেসিডেন্টকে জাগিয়ে দিচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই মজা করে ওই নারীকে ‘দ্য জ্যাপার’ নাম দিয়েছেন। এমনকি একজন ব্যবহারকারী রসিকতা করে মন্তব্য করেছেন, ট্রাম্পকে যেন ল্যাপটপ রিবুট করার মতো পুনরায় চালু করা হচ্ছে।
আরও


তবে সচেতন মহল এই দাবিকে কেবলই গুজব হিসেবে উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁদের যুক্তি হলো, ট্রাম্পের পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা ওই নারীর পক্ষে প্রেসিডেন্টের চোখ বন্ধ হয়েছে কি না, তা সহজেই দেখতে পাওয়ার কথা নয়। এ ছাড়া হোয়াইট হাউসের প্রটোকলে এমন অদ্ভুত কোনো দায়িত্বের অস্তিত্ব নেই। ইতিমধ্যে নেটিজেনরা ট্রাম্পের পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা ওই নারীকে শনাক্ত করেছেন। তাঁর নাম জেমি লিগ ফ্র্যাঙ্কলিন (২৭)। তিনি মূলত একজন রক্ষণশীল ধারার গণমাধ্যম উদ্যোক্তা, ভাষ্যকার এবং ‘দ্য কনজারভেটর’ নামের একটি প্ল্যাটফর্মের প্রতিষ্ঠাতা। এর আগে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনেও কাজ করেছেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া এই ‘বাজার’ তত্ত্ব নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।











