বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা স্থগিত রাখার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া বিতর্কিত নীতিটি বাতিল ঘোষণা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত। ম্যানহাটানের মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট আদালতের বিচারক জ্যানেট ভার্গাস শুক্রবার এই স্থগিতাদেশকে ‘স্পষ্টতই বেআইনি’ বলে আখ্যা দেন। রায়ে তিনি উল্লেখ করেন, এই নীতি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাঁর আইনি ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন। অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্ক’, ‘আফ্রিকান কমিউনিটিজ টুগেদার’ এবং ক্ষতিগ্রস্ত ভিসা আবেদনকারীদের দায়ের করা একটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে নিযুক্ত এই বিচারক রায়টি দিয়েছেন।
রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক জ্যানেট ভার্গাস জানান, কেবল জাতীয়তার ওপর ভিত্তি করে ঢালাওভাবে কোনো দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া বন্ধ করে দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় অভিবাসন আইনের সরাসরি লঙ্ঘন। মার্কিন অভিবাসন আইনে ভিসা অনুমোদনের ক্ষেত্রে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার যে এখতিয়ার রয়েছে, তার ওপর হস্তক্ষেপ করার ক্ষমতা পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে দেওয়া হয়নি। চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে কার্যকর হওয়া এই স্থগিতাদেশের আওতায় বাংলাদেশ ও পাকিস্তানসহ ল্যাটিন আমেরিকা, বলকান অঞ্চল, আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশ ছিল। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি ছিল, এসব দেশের আবেদনকারীরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর সরকারি সুযোগ-সুবিধা বা সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছেন।
ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার যুক্তি দেখিয়ে অভিবাসনব্যবস্থার ওপর একের পর এক কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে আসছে বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসন। নাগরিক অধিকার সংগঠন সেন্টার ফর কনস্টিটিউশনাল রাইটসের দেওয়া তথ্যমতে, বছরের শুরুতে ৩৯টি দেশের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং ডাইভারসিটি ভিসা স্থগিতের ধারাবাহিকতায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো সরকারের এ ধরনের নীতিকে সংখ্যালঘুদের লক্ষ্যবস্তু বানানো এবং বাকস্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের অধিকারের পরিপন্থী হিসেবে তীব্র সমালোচনা করে আসছিল।
আরও
আদালতের এই যুগান্তকারী রায়ের ফলে দীর্ঘ অনিশ্চয়তায় থাকা বাংলাদেশসহ এসব দেশের হাজারো ভিসা আবেদনকারী নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ফেডারেল আদালতের এই রায় এবং পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বা স্টেট ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।











