ইতালিতে পরকীয়ার সন্দেহের জেরে এক প্রবাসী স্বামীকে অচেতন করে তাঁর পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলার মতো গুরুতর ও লোমহর্ষক অভিযোগ উঠেছে স্ত্রীর বিরুদ্ধে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় সালেরনো প্রদেশের আংগ্রি শহরে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ৪১ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি এবং অভিযুক্ত নারী উভয়েই বাংলাদেশি নাগরিক। এই বর্বরোচিত হামলার পরপরই অভিযুক্ত স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ। অন্যদিকে, গুরুতর আহত অবস্থায় ভুক্তভোগী স্বামীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ইতালিতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে এই ঘটনা ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় গণমাধ্যম ‘সালেরনো টুডে’-র প্রতিবেদন ও পুলিশি তদন্তের প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, ঘটনার দিন অভিযুক্ত স্ত্রী প্রথমে কৌশলে কোনো নেশাজাতীয় দ্রব্য বা কড়া ওষুধের মাধ্যমে তাঁর স্বামীকে অচেতন করেন। স্বামী পুরোপুরি জ্ঞান হারালে সুযোগ বুঝে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলেন তিনি। পরে জ্ঞান ফেরার পর রক্তাক্ত ও চরম যন্ত্রণাকাতর অবস্থায় ওই ব্যক্তি কোনোমতে বাসা থেকে বের হয়ে প্রতিবেশীদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেন। এ সময় প্রতিবেশীরা ইতালির জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নম্বর ১১৮-তে কল করলে দ্রুত ঘটনাস্থলে অ্যাম্বুলেন্স ও পুলিশ পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, বর্তমানে ওই প্রবাসী আশঙ্কামুক্ত হলেও তাঁর দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে।
এই পাশবিক হামলার পরপরই অভিযুক্ত স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী (ক্যারাবিনিয়েরি)। বর্তমানে তিনি পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে ইতালির ফৌজদারি আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ ভুক্তভোগী এবং অভিযুক্তের নাম প্রকাশ করেনি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, এই মর্মান্তিক ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তাদের বিশদ তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও পারিপার্শ্বিক তথ্যের ভিত্তিতে পরকীয়া সম্পর্কের জেরেই এই চরম প্রতিশোধমূলক ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আরও
এদিকে প্রবাসী বাংলাদেশির সঙ্গে ঘটে যাওয়া এই অমানবিক ঘটনাটি ইতালিতে নতুন করে আইনি ও সামাজিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ইতালীয় মানবাধিকার সংগঠন ও বিশিষ্ট আইনজীবীরা ভুক্তভোগী বাংলাদেশির পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন। প্রখ্যাত ইতালীয় আইনজীবী অ্যাঞ্জেলো পিসানি ঘোষণা দিয়েছেন যে, তাঁর সংগঠন এই মামলায় ভুক্তভোগীর পক্ষে ‘দেওয়ানি পক্ষ’ (সিভিল পার্টি) হিসেবে আইনি লড়াইয়ে অংশ নেবে। এই ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, “এ সহিংসতার ঘটনা আমাদের সমাজ নিয়ে নতুন করে চিন্তার দাবি রাখে। এটি প্রমাণ করে যে, সহিংসতার কোনো নির্দিষ্ট লিঙ্গ নেই। ভুক্তভোগী যেই হোন না কেন, লিঙ্গ বা আদর্শের ভিত্তিতে কোনো ভেদাভেদ ছাড়াই প্রত্যেকের সমান আইনি সুরক্ষা, শুনানি ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে।”









