Long Popup (2)
সর্বশেষ

মুন্সিগঞ্জে চাচাকে খুন; নিউইয়র্কে প্রবাসীর ১৫ বছরের কারাদণ্ড

ScreenshotProbashircityWebPopupUpdate

বাংলাদেশে এসে পৈতৃক সম্পত্তির বিরোধের জেরে আপন চাচাকে গুলি করে হত্যার দায়ে গ্যানেট রোজারিও (৫৪) নামে এক মার্কিন প্রবাসীকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন নিউইয়র্কের একটি আদালত। বৃহস্পতিবার (৭ মে) মার্কিন বিচার বিভাগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করে। সাজাপ্রাপ্ত গ্যানেট যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রঙ্কস এলাকার বাসিন্দা। আদালত ও মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, খুনের শিকার মাইকেল রোজারিও এবং দণ্ডপ্রাপ্ত খুনি গ্যানেট রোজারিও সম্পর্কে আপন চাচা-ভাতিজা এবং তাঁরা উভয়েই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। বাংলাদেশের মুন্সিগঞ্জে তাঁদের পারিবারিক বসতভিটা ও জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল, যার জেরে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটে।

হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বিবরণে জানা যায়, জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ের সুরাহা করতে ২০২১ সালে চাচা ও ভাতিজা উভয়েই বাংলাদেশে এসে মুন্সিগঞ্জের ওই বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। ওই বছরের ১১ জুন সন্ধ্যায় গ্যানেট বাড়ির বাইরে ধূমপান করছিলেন। এ সময় জানালার আড়াল থেকে তিনি শুনতে পান যে, তাঁর চাচা মাইকেল তাঁকে উদ্দেশ করে গালমন্দ করছেন। এতে চরম ক্ষিপ্ত হয়ে গ্যানেট দ্রুত ঘর থেকে একটি শটগান বের করে আনেন এবং চিৎকার করে বলেন, “তুই কাল আর সূর্য দেখবি না।” এরপরই তিনি জানালার ফাঁক দিয়ে চাচাকে লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি ছোড়েন। গুলিটি মাইকেলের পেটে বিদ্ধ হলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

বাংলাদেশে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর ২০২৩ সালের জুলাই মাসে গ্যানেট অত্যন্ত সুকৌশলে দেশ ত্যাগ করে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যান। তবে একজন মার্কিন নাগরিককে বিদেশের মাটিতে হত্যার গুরুতর অপরাধে ২০২৪ সালের এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের আইনে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা ও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়। মার্কিন বিচার বিভাগের ক্রিমিনাল ডিভিশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাটর্নি জেনারেল এ. টাইসেন ডুভা এবং সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জে ক্লেটন এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। বিচার চলাকালে আদালতে গ্যানেট নিজের দোষ সম্পূর্ণ স্বীকার করে জবানবন্দি দেওয়ায় সার্বিক পর্যালোচনার পর আদালত তাঁকে ১৫ বছরের এই কারাদণ্ড প্রদান করেন।

বিদেশে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডের নিবিড় তদন্তে সরাসরি যুক্ত ছিল মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের (FBI) লস অ্যাঞ্জেলেস ও নিউইয়র্ক ফিল্ড অফিস। এছাড়া ঢাকার মার্কিন দূতাবাসে নিযুক্ত এফবিআইয়ের লিগ্যাল অ্যাটাশে এবং বিচার বিভাগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক দপ্তর এই মামলার তদন্তে বিশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দুই দেশের আইনি সমন্বয়ের মাধ্যমে মামলার সফল বিচারকাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাই সুষ্ঠু তদন্ত, প্রয়োজনীয় তথ্য ও আইনি সহায়তা প্রদানের জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ।

আরও দেখুন

whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন [email protected] মেইলে।

ProbashircityWebPopupUpdate