আফ্রিকার দেশ মালির মধ্যাঞ্চলে একটি ভয়াবহ ড্রোন হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। দেশটির সেনাবাহিনীর চালানো এই হামলায় একটি বিয়ের আনন্দের আয়োজন মুহূর্তের মধ্যেই গভীর শোকে পরিণত হয়। আজ সোমবার (১৮ মে) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই মর্মান্তিক তথ্য জানানো হয়েছে।
মালির মধ্যাঞ্চলের সান এলাকার তেনে গ্রামে এই প্রাণঘাতী ঘটনা ঘটে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে তেনে এলাকার এক বাসিন্দা জানান, ড্রোন হামলায় তাঁদের ১০ সন্তান নিহত হয়েছে। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে তিনি বলেন, যে অনুষ্ঠানটি তাঁদের গ্রামের জন্য একটি বড় আনন্দের মুহূর্ত হওয়ার কথা ছিল, সেটি এখন কেবলই গভীর শোকের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নিরাপত্তা সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, ওই গ্রামের মানুষ একটি ঐতিহ্যবাহী গণবিয়ের দ্বিতীয় আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, যা তাঁদের সম্প্রদায়ের জন্য একটি বড় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ধারণা করা হচ্ছে, অনুষ্ঠানে অংশ নিতে যাওয়া মোটরসাইকেলের একটি দীর্ঘ মিছিল ড্রোনের নজরে এলে সেটিকে লক্ষ্য করেই এই হামলা চালানো হয়। স্থানীয় এক কর্মকর্তাও ড্রোন হামলায় অন্তত ১০ জন বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির বিষয়টি নিশ্চিত করে একে অত্যন্ত শোকাবহ ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন।
আল-জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত এপ্রিল মাসে জেএনআইএম ও এফএলএ একজোট হওয়ার পর থেকে মালি ভয়াবহ নিরাপত্তা সংকটের মুখে পড়েছে। গত ২৫ ও ২৬ এপ্রিলের প্রাণঘাতী হামলায় দেশটির কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি শহর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। সে সময় মালির প্রভাবশালী প্রতিরক্ষামন্ত্রীও নিহত হন। মালি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা আল-জাজিরার সাংবাদিক নিকোলাস হাক সামরিক সূত্রের বরাতে জানান, সমন্বিত এই হামলায় জড়িত যোদ্ধারা মূলত সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। এর ফলে বর্তমানে দেশটির সামরিক বাহিনীর মধ্যে এক নজিরবিহীন আতঙ্ক বিরাজ করছে। ইউরোপীয় কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের আফ্রিকা পরিচালক অ্যালেক্স ভাইন্স আল-জাজিরাকে বলেন, সাম্প্রতিক এসব হামলায় মালির কর্তৃপক্ষ পুরোপুরি অপ্রস্তুত অবস্থায় পড়ে গেছে।
আরও
স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ দেশ মালি ২০১২ সাল থেকেই চরম অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে। বর্তমানে দেশটি এফএলএ, জেএনআইএম এবং আফ্রিকা কর্পসের তৎপরতায় ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা সংকটের মুখে পড়েছে। উল্লেখ্য, আফ্রিকা কর্পস হলো রাশিয়া সরকার নিয়ন্ত্রিত একটি আধাসামরিক বাহিনী, যারা মূলত দেশটিতে আলোচিত ওয়াগনার গ্রুপের জায়গা নিয়েছে।











