কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদের দান বাক্স খুলে সম্প্রতি ৭ কোটি টাকার বেশি পাওয়া গেছে। বর্তমান বন্যা পরিস্থিতিতে এই টাকা অনুদান হিসেবে দিয়ে দেয়ার তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে বিষয়টি নিতান্তই গুজব বলে জানিয়েছেন মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক।
বৃষ্টি ও উজানের ঢলে বর্তমানে ফেনী, নোয়াখালী, কুমিল্লাসহ দেশের অন্তত ১২ জেলায় স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় গত দু’দিন ধরে ফেসবুকের শত শত পোস্টে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন মসজিদের দানের টাকা অন্য কোথাও অনুদান দেয়া যায় কিনা এ নিয়ে। এরই মধ্যে ফেসবুকের বিভিন্ন পোস্টে বলা শুরু হয়, মসজিদের দান বাক্সের অর্থ বন্যার্তদের মধ্যে অনুদান হিসেবে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি ভাইরাল হলেও মূলত পাগলা মসজিদ থেকে বন্যার্তদের জন্য টাকা অনুদানের বিষয়টি নিতান্তই গুজব। মসজিদ পরিচালনা কমিটি আদৌ এ সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।
আরও
পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির প্রশাসনিক কর্মকর্তা বীর মুক্তিযোদ্ধা শওকত উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, পাগলা মসজিদের ফান্ড থেকে বন্যা কবলিতদের মাঝে অনুদান দেয়ার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যা ছড়িয়েছে, সেটি গুজব।
যোগাযোগ করা হলে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল কালাম আজাদ বলেন, মসজিদের টাকা অনুদান দেয়ার বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য নিতান্তই গুজব।
তিনি আরও বলেন, মসজিদ পরিচালনার জন্য ৩০ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি রয়েছে। সব শেষ মসজিদের দানবাক্স থেকে টাকা পাওয়ার পর কমিটির কোনো মিটিং হয়নি। আর দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে মিটিংয়ের কোনো সুযোগ নেই। কাজেই কমিটির সভায় বন্যার্তদের জন্য মসজিদের টাকা অনুদান দেয়ার বিষয়টি সত্য নয়। এ ছাড়া ওয়াকফ স্ট্যাটের অধীনে মসজিদ পরিচালিত হচ্ছে। তাই ইচ্ছে করলেই মসজিদের টাকা কোথাও অনুদান দেয়া সম্ভব না।
জানা গেছে, কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের ৯টি দান সিন্দুকে কোটি কোটি টাকা দান করেন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা লোকজন। প্রতি তিন মাস পর পর দানবাক্সগুলো খুলে এ থেকে পাওয়া যায় কোটি কোটি টাকা, স্বর্ণালঙ্কারসহ বিদেশি মুদ্রা। সর্বশেষ গত ১৭ আগস্ট ৩ মাস ২৬ দিন পর পাগলা মসজিদের নয়টি দানবাক্স খুলে ২৮ বস্তা টাকা পাওয়া যায়। দিনভর গণনা শেষে সেই টাকার পরিমাণ ৭ কোটি ২২ লাখ ১৩ হাজার ৪৬ টাকা। এর আগে গত ২০ এপ্রিল পাগলা মসজিদের দানবাক্স থেকে পাওয়া যায় রেকর্ড ৭ কোটি ৭৮ লাখ ৬৭ হাজার ৫৩৭ টাকা। সংশ্লিষ্টরা জানান, পাগলা মসজিদের দানসিন্দুক থেকে পাওয়া টাকা শহরের একটি ব্যাংকে মসজিদের হিসাবে জমা রাখা হয়। এ টাকা দিয়ে প্রায় শত কোটি টাকা ব্যায়ে পাগলা মসজিদের বহুতল ভবন ও কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে মসজিদের হিসাবে এখন পর্যন্ত সর্বমোট কত টাকা জমা আছে, সেটি প্রকাশ করেনি মসজিদ কর্তৃপক্ষ।













