পরিবারের অভাব ঘোচাতে দীর্ঘ ১০ বছর আগে ওমানে পাড়ি জমিয়েছিলেন সৈয়দ জামান (৫৫)। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে পরিবারের স্বচ্ছলতা ফেরানোর আগেই প্রবাসের মাটিতে লাশ হতে হলো এই রেমিট্যান্স যোদ্ধাকে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ওমানের আল বুরামি শহরে নিজ কর্মস্থলে হঠাৎ স্ট্রোক করে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে তার। নিহত সৈয়দ জামান লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর উপজেলার চরফলকন ইউনিয়নের জাজিরা এলাকার তমিজ উদ্দিন বকসির ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বাড়িতে তার স্ত্রী, দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। দীর্ঘ এক দশক ধরে ওমানে হাড়ভাঙা খাটুনি করলেও পরিবারের দারিদ্র্য পুরোপুরি ঘোচাতে পারেননি তিনি। দেশে তার স্ত্রী-সন্তানরা এখনো জরাজীর্ণ একটি ঘরে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। পরিবারের এমন করুণ অবস্থার কথা চিন্তা করে তিনি সবসময় চরম মানসিক চাপে ভুগতেন। স্বজনদের ধারণা, এই দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ ও হতাশা সইতে না পেরেই কর্মস্থলে হঠাৎ স্ট্রোক করে মারা গেছেন তিনি। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে এখন পুরোপুরি দিশেহারা নিহতের স্ত্রী ও সন্তানেরা।
বিদেশের মাটিতে আকস্মিক এই মৃত্যুর খবরে নিহতের গ্রামের বাড়িতে এখন শোকের মাতম চলছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সহযোগিতায় সৈয়দ জামানের মরদেহ যেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে এনে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ করে দেওয়া হয়, সে বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছে তার অসহায় পরিবার।











