ভারতের হায়দরাবাদে একটি বিলাসবহুল হোটেলের কক্ষ থেকে এক মার্কিন নাগরিকের রহস্যজনক মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ৪১ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির নাম মিচেল ব্রায়ান লি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা ছিলেন। শনিবার (৭ নভেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, হায়দরাবাদের গাছিবৌলি এলাকার এসএলএন টার্মিনাসে অবস্থিত ম্যারিয়ট এক্সিকিউটিভ অ্যাপার্টমেন্টসের একটি কক্ষ থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। এরই মধ্যে সাইবারাবাদ কমিশনারেটের গাছিবৌলি থানা পুলিশ এই মর্মান্তিক ঘটনায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মিচেল ব্রায়ান লি মূলত একটি ব্যবসায়িক সফরে ভারতে এসেছিলেন। গত ২ নভেম্বর ডেভিড নামের অপর এক ব্যবসায়িক অংশীদারকে সঙ্গে নিয়ে তিনি হায়দরাবাদে পৌঁছান। এরপর তারা দুজনই ওই ম্যারিয়ট এক্সিকিউটিভ অ্যাপার্টমেন্টসে অবস্থান করছিলেন। হোটেলের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, লি ওই ভবনের ১২ তলার ১২১৮ নম্বর কক্ষে ছিলেন। সবকিছু স্বাভাবিকভাবেই চলছিল, কিন্তু গত ৪ নভেম্বর সন্ধ্যা থেকে হঠাৎ করেই তার সঙ্গে আর ফোনে কোনো ধরনের যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না। তার ব্যবসায়িক অংশীদার ও হোটেল কর্তৃপক্ষ বারবার চেষ্টা করেও তার দিক থেকে কোনো সাড়া পাচ্ছিলেন না।
আরও
টানা যোগাযোগের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর হোটেল কর্মীদের মনে গভীর সন্দেহের সৃষ্টি হয়। অবশেষে পরদিন ৫ নভেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে হোটেলের কর্মীরা বাধ্য হয়ে মাস্টার চাবি ব্যবহার করে ওই কক্ষের দরজা খোলেন। ভেতরে প্রবেশ করতেই তারা মিচেল ব্রায়ান লিকে বিছানার ওপর সম্পূর্ণ অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তারা বিন্দুমাত্র দেরি না করে দ্রুত ভারতের জরুরি অ্যাম্বুলেন্স সেবা ১০৮-এ খবর দেন। খবর পেয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই চিকিৎসাকর্মীদের একটি দল হোটেলে পৌঁছে তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনাস্থলে পৌঁছানো চিকিৎসাকর্মীরা নিশ্চিত করেন যে, তাদের পৌঁছানোর বেশ আগেই ওই মার্কিন নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। পরবর্তীতে হোটেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে খবর পেয়ে গাছিবৌলি থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই কক্ষটি নিবিড়ভাবে পরিদর্শন করে এবং প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করে। ঠিক কী কারণে এবং কোন পরিস্থিতিতে এমন মৃত্যু ঘটল, তার পেছনের আসল রহস্য উদ্ঘাটনে জোর তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিহতের ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাবে। আপাতত এটিকে অস্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবেই রেকর্ড করে আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।










