বিদেশি নাগরিকদের স্থায়ী বসবাসের অনুমতিবিষয়ক আইনি নীতিমালায় বড় ধরনের সংশোধন এনেছে কুয়েত। এ পরিবর্তনের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ এই দেশটিতে স্থায়ী আবাসন বা রেসিডেন্সি সংক্রান্ত শত শত আবেদন সরাসরি বাতিল হয়ে গেছে। কাতার ও আমিরাতভিত্তিক আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
কুয়েতে এতদিন ভ্রমণ বা দর্শনার্থী ভিসায় গিয়ে সেটি স্থায়ী আবাসনে রূপান্তরের আবেদন করার সুযোগ ছিল। কোনো ধরনের অপরাধমূলক রেকর্ড না থাকলে সাধারণ নিয়মে সেই আবেদনগুলো অনুমোদিতও হতো। তবে সম্প্রতি কুয়েত সরকার তাদের প্রচলিত আইনি কাঠামোর ১৭, ১৮, ২০ ও ২২ নম্বর ধারায় গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন এনেছে। ফলে আগের সেই সুযোগ অনেকটাই সংকুচিত হয়ে এসেছে এবং পরিবর্তিত এই নিয়মের আওতায় পূর্ববর্তী অনেক আবেদন বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
নতুন সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী, কোনো বিদেশি নাগরিক যদি তাঁর পরিবারকে কুয়েতে এনে স্থায়ীভাবে বসবাস করাতে চান, তবে তাঁর জন্য সুনির্দিষ্ট আর্থিক সক্ষমতার শর্ত আরোপ করা হয়েছে। ভিসাকে স্থায়ী আবাসন নথিতে রূপান্তর করার ফি, স্বাস্থ্যবিমা এবং বসবাসের প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহের পরও আবেদনকারী প্রবাসীর হাতে প্রতি মাসে ন্যূনতম ৮০০ কুয়েতি দিনার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার ৮০৯ টাকা) অবশিষ্ট থাকতে হবে। কেবল এই শর্ত পূরণ হলেই স্থায়ী বসবাসের অনুমোদনপত্র দেওয়া হবে। এই অধিকারপ্রাপ্ত প্রবাসীরা তাঁদের স্বামী বা স্ত্রী, ১৮ বছরের কম বয়সী ছেলেসন্তান এবং ২১ বছরের কম বয়সী মেয়েসন্তানদের স্থায়ীভাবে কুয়েতে নিয়ে আসতে পারবেন।
আরও
নিয়মে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে যে, যাঁদের স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমোদন নেই, তাঁরাও পরিবারকে কুয়েতে আনতে পারবেন; তবে তা কোনোভাবেই স্থায়ী হবে না। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁদের নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে। উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে মূল্যবান মুদ্রা হিসেবে বিবেচিত কুয়েতি দিনারের মান ৩ দশমিক ২৫ মার্কিন ডলারের চেয়েও বেশি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪০০ টাকার সমান।










