Opens in a new tab
সর্বশেষ

প্রবাসীদের ঋণ প্রদানে কড়াকড়ি আরোপ করছে কুয়েত

KuiteWeb Popup (3)

প্রবাসী কর্মীদের ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে শর্ত আরও কঠোর করেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কুয়েত। মূলত চাকরির অনিশ্চয়তা, সরকারের ‘কুয়েতিকরণ’ নীতি এবং হুট করে কর্মচুক্তি বাতিলের ঝুঁকির কারণেই দেশটির ব্যাংকগুলো ঋণ পাসের ক্ষেত্রে এখন অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে দেশটির ব্যাংকিং খাতের সূত্রের বরাতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। তবে প্রবাসীদের ঋণ প্রদান পুরোপুরি বন্ধের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বরং ঋণ পরিশোধের নির্দিষ্ট মেয়াদ চলাকালে আবেদনকারীর চাকরি বহাল থাকবে কি না, ব্যাংকগুলো এখন সেটিই সবচেয়ে বেশি যাচাই-বাছাই করে দেখছে।

নতুন এই কড়াকড়ির ফলে সবচেয়ে বেশি নজরদারিতে পড়েছেন কুয়েতিকরণ নীতির আওতাভুক্ত সরকারি চাকরিজীবী এবং যেসব পেশায় প্রশাসনিক পুনর্গঠন চলছে সেখানকার কর্মীরা। বিশেষ করে উদ্বৃত্ত কর্মী ছাঁটাইয়ের তালিকায় থাকা কিছু সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, সমবায় সমিতি এবং পাবলিক বেনিফিট অর্গানাইজেশনের কর্মীরা ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতায় পড়ছেন। তবে চিকিৎসক, প্রকৌশলী, স্বাস্থ্যকর্মী, প্রযুক্তিবিদ এবং তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের মতো সুরক্ষিত পেশার প্রবাসীদের ঋণ পেতে কোনো বাধা নেই। ব্যাংকগুলো এসব পেশাজীবীদের নিরাপদ গ্রাহক হিসেবেই বিবেচনা করছে।

বর্তমানে ঋণ পাসের ক্ষেত্রে প্রার্থীর চাকরির মেয়াদ, মাসিক আয়, অতীতের লেনদেনের ইতিহাস এবং চাকরি শেষে প্রাপ্য গ্র্যাচুইটি বা সুবিধাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যেসব প্রবাসীর কাজের মেয়াদ দশ বছর বা তার বেশি, তাঁদের কম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করছে ব্যাংকগুলো; কারণ তাঁদের জমা হওয়া গ্র্যাচুইটির অর্থ ঋণের বাড়তি জামানত হিসেবে কাজ করে। বিপরীতে নতুন কর্মী এবং তুলনামূলক কম শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন প্রবাসীদের ক্ষেত্রে শর্ত কঠোর করার পাশাপাশি ঋণের সীমাও উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনা হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংকগুলো এখন আবেদনকারীর নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা এবং নিয়মিত বেতন পরিশোধের অতীত রেকর্ডও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

কুয়েতের প্রচলিত ব্যাংকিং নিয়ম অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ সাপেক্ষে একজন প্রবাসী সর্বোচ্চ ৯৫ হাজার কুয়েতি দিনার পর্যন্ত যৌথ ভোক্তা ও আবাসন ঋণ নিতে পারেন। তবে এ ক্ষেত্রে গ্রাহকের মাসিক বেতন হতে হবে ন্যূনতম ২ হাজার ৭৫০ দিনার, যার সম্ভাব্য মাসিক কিস্তি দাঁড়াবে ১ হাজার ১০০ দিনার। অন্যদিকে ২৫ হাজার দিনার ঋণের জন্য মাসিক বেতন অন্তত ১ হাজার ২২৫ দিনার হতে হবে। মূলত প্রবাসীদের আর্থিক সক্ষমতার সঙ্গে কিস্তি পরিশোধের সামঞ্জস্য রাখতেই আয়ের এই শর্তগুলো এখন আরও কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে।

আরও দেখুন

খবরটি শেয়ার করুন:
whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন [email protected] মেইলে।

Web Popup (3)
Web Squre popup