বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জে এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগে সুজন আকন নামের এক যুবককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে এলাকাবাসী। পরবর্তীতে ওই গৃহবধূ নিজেই বাদী হয়ে সুজনের বিরুদ্ধে থানায় ধর্ষণের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেছেন। গত সোমবার রাত ৯টার দিকে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের পশ্চিম সাদেকপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাত বছর ধরে সৌদি আরবে কর্মরত ওই প্রবাসীর সঙ্গে তিন বছর আগে ভুক্তভোগী ওই নারীর বিয়ে হয়। বছরখানেক আগে দেশে ফিরে পুনরায় ছয় মাস আগে স্বামী বিদেশে চলে গেলে গৃহবধূ গ্রামেই অবস্থান করছিলেন। সোমবার রাতে প্রবাসীর বাড়ির একটি কক্ষ দীর্ঘক্ষণ বন্ধ থাকায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে তাঁরা ওই কক্ষে প্রবেশ করে গৃহবধূ ও সুজনকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান বলে দাবি করেন। তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা মিলে দুজনকে আটকে রাখেন এবং পুলিশে খবর দেন। স্থানীয়ভাবে কয়েক দফায় বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও কোনো সমঝোতা না হওয়ায় মঙ্গলবার তাঁদের থানায় হস্তান্তর করা হয়।
অভিযুক্ত সুজন আকন সদর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। বিবাহিত এই যুবকের সংসারে দুটি সন্তান রয়েছে। গৃহবধূর শ্বশুরবাড়ির লোকজনের ভাষ্যমতে, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পক্ষে তাঁদের বাড়িতে একটি নির্বাচনী ওঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই বৈঠকেই সুজনের সঙ্গে ওই গৃহবধূর প্রথম পরিচয় হয়। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তাঁদের যোগাযোগ ও ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। শ্বশুরবাড়ির চাপে গৃহবধূর মুঠোফোন বন্ধ থাকলে সুজন তাঁকে নতুন একটি ফোন কিনে দিয়েছিলেন বলেও স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। গৃহবধূর এক জা জানান, এর আগেও সুজন একবার ধরা পড়েছিলেন এবং ভবিষ্যতে এমন কাজ না করার শর্তে স্ট্যাম্পে লিখিত মুচলেকা দিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি কথা রাখেননি।
আরও
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন সুজন আকন। তাঁর দাবি, ওই নারীর সঙ্গে তাঁর দেবর-ভাবি সম্পর্ক এবং গৃহবধূ নিজেই তাঁকে মুঠোফোনে ডেকে এনেছিলেন। আগে থেকেই ওঁৎ পেতে থাকা লোকজন তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এদিকে সুজন জামায়াতে ইসলামীর কর্মী বলে এলাকায় প্রচার থাকলেও দলটির সদর ইউনিয়ন শাখার সভাপতি মো. সেলিম শিকদার তা নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি জানান, সুজন তাঁদের দলের কোনো পদে নেই, তবে সাধারণ মানুষ হিসেবে হয়তো কোনো কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে থাকতে পারেন। মেহেন্দীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিন উদ্দিন জানিয়েছেন, দুজনকে আপত্তিকর অবস্থায় আটকের পর গৃহবধূ বাদী হয়ে সুজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের এজাহার দিয়েছেন এবং এ বিষয়ে পুলিশের আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।










