মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গর রাজ্যে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান চালিয়েছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ (জেআইএম)। ‘অপস মেগা’ নামের এই সাঁড়াশি অভিযানে বাংলাদেশ, নেপাল, মিয়ানমার, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার অন্তত ২৭০ জন অভিবাসী কর্মীকে আটক করা হয়েছে। গতকাল বুধবার (২৪ জুন) সকালে পরিচালিত এই অভিযানে ভিসা ও কর্মসংস্থান–সংক্রান্ত বিভিন্ন ইমিগ্রেশন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তাঁদের আটক করা হয়। তবে আটক হওয়া এই বিপুলসংখ্যক কর্মীর মধ্যে ঠিক কতজন বাংলাদেশি রয়েছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ইমিগ্রেশন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সেলাঙ্গরের মেরু ও তেলোক গং এলাকার দুটি কারখানায় কর্মরত মোট ৫৮৬ জন বিদেশি শ্রমিকের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এই ২৭০ জনকে আটক করা হয়। সেলাঙ্গর ইমিগ্রেশন বিভাগের উপপরিচালক (নিয়ন্ত্রণ) মোহদ খুসাইরি কামারুদ্দিন জানান, গতকাল সকাল ৮টার দিকে মেরুর একটি প্লাস্টিক কারখানায় প্রথম ধাপে অভিযান চালানো হয়। সেখানে ৬৬ জন শ্রমিককে যাচাই-বাছাই করে ১৮ জনকে আটক করা হয়। পরে তেলোক গং এলাকার একটি আসবাব কারখানায় অভিযান চালিয়ে ৫২০ জন শ্রমিকের মধ্যে ২৫২ জনকে আটক করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। আটক হওয়া এসব কর্মীর বিরুদ্ধে ভিসার শর্ত লঙ্ঘন, অনুমোদিত খাতের বাইরে কাজ করা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ পাস নিয়ে অবস্থানের সুস্পষ্ট অভিযোগ রয়েছে।
আরও
আকস্মিক এই অভিযান চলাকালে কারখানাগুলোতে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কর্তৃপক্ষের উপস্থিতি টের পেয়ে অনেক শ্রমিক দিগ্বিদিক ছুটতে শুরু করেন এবং কারখানার বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে পড়ার চেষ্টা করেন। ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা জানান, তেলোক গংয়ের কারখানায় এক বাংলাদেশি শ্রমিক গ্রেপ্তার এড়াতে ময়লার স্তূপের আড়ালে একটি বর্জ্যবাহী কনটেইনারের ভেতরে লুকিয়ে ছিলেন। তল্লাশির একপর্যায়ে তাঁকে সেখান থেকে খুঁজে বের করা হয়। এ ছাড়া আরও কয়েকজনকে কাঠ কাটার মেশিন ও বড় বড় বাক্সের পেছন থেকে আটক করা হয়। কিছু শ্রমিক বৈধ পাস থাকার দাবি করলেও অভিযানের সময় তাঁরা প্রয়োজনীয় নথিপত্র দেখাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হন।
অবৈধ অভিবাসীদের পাশাপাশি নিয়োগদাতাদেরও কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ। মোহদ খুসাইরি জানান, নিয়োগদাতাদের অবশ্যই শ্রমিকদের বৈধতা, অবস্থান ও কর্মক্ষেত্র সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। বিশেষ করে ‘অস্থায়ী কর্মসংস্থান ভিজিট পাস’ (পিএলকেএস) নিয়ে শ্রমিকেরা কেবল অনুমোদিত খাতেই কাজ করছেন কি না, তা নিশ্চিত করার দায় পুরোপুরি নিয়োগকর্তার। আটক সব অভিবাসী কর্মীর বিরুদ্ধে ১৯৫৯/৬৩ সালের ইমিগ্রেশন আইনের আওতায় তদন্ত শুরু হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে সংশ্লিষ্ট ধারায় তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সেলাঙ্গর কর্তৃপক্ষ।










