পরিবারের দারিদ্র্য ঘোচাতে আর স্ত্রী-সন্তানদের মুখে হাসি ফোটাতে অনেক স্বপ্ন নিয়ে ইতালিতে পাড়ি জমিয়েছিলেন জিন্নাত খান খোকন। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। গত শুক্রবার ইতালির কাতানিয়া শহরের একটি ভাড়া বাসা থেকে এই বাংলাদেশির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে স্থানীয় পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, প্রবাসে গিয়ে কাজের সন্ধান না পাওয়া এবং দেশে থাকা পাওনাদারদের বিপুল ঋণের চাপের কারণেই হতাশায় ভুগে তিনি আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন।
নিহত জিন্নাত খান খোকন বাগেরহাট সদর উপজেলার শিমুলতলা গ্রামের মৃত লুৎফর রহমান খানের ছেলে। তাঁর স্ত্রী সুমি বেগম জানান, পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে নিজেদের বসতভিটা বিক্রি এবং চড়া সুদে ঋণ নিয়ে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা জোগাড় করেছিলেন খোকন। এরপর দালাল চক্রের মাধ্যমে গত বছরের সেপ্টেম্বরে দেশ ছাড়েন তিনি। প্রথমে বৈধ ভিসায় বুলগেরিয়া গেলেও সেখান থেকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধ পথে তাঁকে ইতালিতে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর দীর্ঘ সময় পার হলেও তিনি কোনো বৈধ কাগজপত্র বা স্থায়ী কাজের ব্যবস্থা করতে পারেননি। একদিকে প্রবাসজীবনের বেকারত্ব ও আর্থিক সংকট, অন্যদিকে দেশে পাওনাদারদের ক্রমাগত চাপ—সব মিলিয়ে তিনি মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন।
পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন খোকনের স্ত্রী ও তিন কন্যাসন্তান। ইতালি থেকে তাঁর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার মতো ন্যূনতম আর্থিক সামর্থ্যও এই নিঃস্ব পরিবারের নেই। শেষবারের মতো প্রিয়জনের মুখ দেখতে সরকার ও রোম দূতাবাসের কাছে আকুতি জানিয়েছিলেন তাঁরা।
আরও
এই অসহায় পরিস্থিতিতে খোকনের পরিবারের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে রোমের বাংলাদেশ দূতাবাস। দূতাবাসের প্রথম সচিব আসিফ আনাম সিদ্দিকী জানিয়েছেন, নিহত খোকনের জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) বৈধ কার্ড থাকায় সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তাঁর লাশ দেশে পাঠানোর বিমান ভাড়াসহ যাবতীয় খরচ দূতাবাসই বহন করবে। এ বিষয়ে ইতালিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রকিবুল হক জানান, তাঁরা ইতিমধ্যে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং লাশ দেশে পাঠানোর ছাড়পত্র দূতাবাস থেকে ইস্যু করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে নিহতের পরিবারকে তিন লাখ টাকার আর্থিক সহায়তাও প্রদান করা হবে।








![Hgxzjop[]](https://probashtime.net/wp-content/uploads/2026/06/hgxzjop.webp)


