Long Popup (2)
সর্বশেষ

হামলা বন্ধের শর্তে ইরানকে ২০ বিলিয়ন ডলার দিচ্ছে আমিরাত

ImagesProbashircityWebPopupUpdate

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার পারদ কিছুটা কমিয়ে আনতে এক অভাবনীয় কূটনৈতিক পথে হেঁটেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের কয়েক সপ্তাহব্যাপী তীব্র সংঘাতের মধ্যেই নিজ ভূখণ্ডে হামলা এড়াতে তেহরানকে কয়েক শ কোটি ডলারের তহবিল ছাড় দিতে রাজি হয়েছে ধনী এই উপসাগরীয় দেশটি। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, দুই দেশের মধ্যকার এই অঘোষিত সমঝোতার আওতায় আমিরাত মোট ১ হাজার থেকে ২ হাজার কোটি (১০ থেকে ২০ বিলিয়ন) ডলার পর্যন্ত ছাড়তে পারে, যার প্রথম কিস্তি হিসেবে ইতিমধ্যে ৩০০ কোটি ডলার তেহরানের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

Prothomalo bangla 2026 06 13 qjfvxk12 Iran UAE

প্রকাশ্য শত্রুতা থেকে সরে এসে আরব আমিরাতের এই আকস্মিক নীতিগত পরিবর্তন মূলত নিজেদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও দুবাইয়ের মতো বৈশ্বিক ব্যবসাকেন্দ্রের মর্যাদা টিকিয়ে রাখার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। যুদ্ধের প্রভাবে আমিরাতের দুবাই শহর থেকে অনেক প্রবাসী চলে যাচ্ছিলেন এবং বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মাঝে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। সূত্রমতে, এই সমঝোতার ফলে সংঘাতের সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি পক্ষই নিজেদের ভাবমূর্তি রক্ষার সুযোগ পাচ্ছে। ইরান এটিকে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ আদায় হিসেবে দেখাতে পারবে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও দাবি করতে পারবে যে তারা তেহরানকে কোনো সরাসরি অর্থ দেয়নি। সম্প্রতি ইরানের ক্ষমতাধর ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) শীর্ষ কর্মকর্তাদের আবুধাবি সফর এবং আমিরাতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শেখ তাহনুন বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে গোপন বৈঠকের পরই এই চুক্তি চূড়ান্ত রূপ পায়।

Prothomalo bangla 2026 06 13 v0h097f4 Iran UAE

এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ছাড়ের প্রধান শর্ত হলো সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর ইরানের যাবতীয় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা। উল্লেখ্য, গত ৪ মে ওমান উপসাগরের ফুজাইরাহ বন্দরে আমিরাতের ওপর সর্বশেষ হামলা চালিয়েছিল ইরান। নতুন এই সমঝোতার আওতায় হামলা বন্ধের পাশাপাশি উভয় দেশের মধ্যে নিবিড় গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সূত্রগুলো আরও নিশ্চিত করেছে, আমিরাতের সঙ্গে সফল আলোচনার পর ইরান এখন এই একই মডেলে অন্তত আরও দুটি উপসাগরীয় আরব দেশের সঙ্গে একই ধরনের আর্থিক ও নিরাপত্তাবিষয়ক সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

তবে তেহরানকে দেওয়া এই অর্থ সরাসরি আমিরাতের নিজস্ব তহবিল, নাকি মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে দুবাইয়ের ব্যাংকগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা ইরানেরই অবরুদ্ধ সম্পদ, তা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ লেনদেনের বিষয়ে হোয়াইট হাউস বা ইরানি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ না খুললেও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্পষ্ট জানিয়েছেন, শুধু চুক্তিতে সই করলেই হবে না, ইরান নিজেদের প্রতিশ্রুতিগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করলেই কেবল অর্থনৈতিক সুবিধাগুলো ভোগ করতে পারবে। অন্যদিকে, আমিরাতের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বিষয়টির সরাসরি উত্তর এড়িয়ে গিয়ে জানিয়েছেন, সংঘাতের প্রভাব থেকে মানুষকে বাঁচাতে এবং গোটা মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাই বর্তমানে তাঁদের এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য।

আরও দেখুন

whatsappচ্যানেল ফলো করুনProbashircityWebPopupUpdate