মালয়েশিয়ায় এক বাংলাদেশি মুদি দোকান কর্মচারীকে নির্মমভাবে মারধর এবং দোকানে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগে স্থানীয় দুই যুবককে সাত দিনের রিমান্ডে নিয়েছে দেশটির পুলিশ। বুধবার (১০ জুন) কুয়ালা তেরেঙ্গানু ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ২১ ও ২৩ বছর বয়সী দুই সন্দেহভাজন যুবকের বিরুদ্ধে এই রিমান্ড আদেশ জারি করেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া এই সহিংসতার ঘটনার পর বুধবার থেকেই তাঁদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে।
মামলার বিবরণী ও স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় ওই বাংলাদেশি নাগরিক কামপুং মাক কেমাসের একটি মুদি দোকানে নিজের দায়িত্ব পালন করছিলেন। এমন সময় অপরিচিত তিন স্থানীয় যুবক সেখানে এসে আকস্মিকভাবে তাঁর নাগরিকত্ব সম্পর্কে জানতে চায়। কোনো যৌক্তিক কারণ বা আইনি এখতিয়ার ছাড়াই তারা ওই প্রবাসীর কাছে তাঁর পাসপোর্ট দাবি করে বসে। বাংলাদেশি কর্মী এতে অস্বীকৃতি জানালে যুবকেরা আচমকা চরম সহিংস হয়ে ওঠে।
এজাহারের তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজনদের মধ্যে একজন প্রথমে ভুক্তভোগী বাংলাদেশিকে সজোরে চড় মারে। এরপর একটি পরিবর্তিত রাবারের পাইপ দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে শুরু করে। পরবর্তীতে বাকি যুবকেরাও এই বর্বরতায় যোগ দিয়ে ওই কর্মচারীর মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে নির্মমভাবে মারধর করে এবং ক্ষিপ্ত হয়ে দোকানের ভেতরে থাকা মালামাল তছনছ করে। এই হামলায় ওই বাংলাদেশি কর্মী মাথায় ও মুখে প্রচণ্ড আঘাত পেয়েছেন। তাঁর ডান কপালে গুরুতর ফোলা জখম এবং ডান বাহুতে কালশিটে দাগ পড়েছে।
আরও
বর্তমানে মালয়েশীয় পুলিশ এই বর্বরোচিত ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে এবং জড়িত অন্য আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, বিপজ্জনক অস্ত্র দিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করার অভিযোগে দেশটির দণ্ডবিধির ৩২৪ ধারা এবং ভাঙচুর ও আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগে ৪২৭ ধারায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। কর্মস্থলে প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে কঠোর আইনি প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।










