কম্বোডিয়ায় স্ট্রোকে মারা যাওয়া নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের বাসিন্দা মিন্টু মিয়ার (৫১) লাশ মৃত্যুর প্রায় এক বছর পর দেশে পৌঁছেছে। নানা প্রশাসনিক জটিলতা ও চরম অর্থসংকটের কারণে তাঁর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে পরিবারকে দীর্ঘ এই সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। আজ রোববার দুপুরে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে তাঁর মরদেহ ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে জমি বিক্রি ও ঋণ করে প্রায় ৬০ লাখ টাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে কম্বোডিয়ায় রেস্তোরাঁর ব্যবসা শুরু করেছিলেন মিন্টু মিয়া। কিন্তু সড়ক সম্প্রসারণকাজের জন্য ওই রেস্তোরাঁটি ভেঙে ফেলা হলে তিনি স্থানীয় এক কম্বোডিয়ান নাগরিকের সঙ্গে যৌথ ব্যবসায় বিনিয়োগ করেন। সেখানেও মারাত্মক প্রতারণার শিকার হয়ে মানসিকভাবে চরম ভেঙে পড়েন তিনি। পরে ২০২৫ সালের ২৬ আগস্ট কম্বোডিয়ার রাজধানী নমপেনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়।
মিন্টু মিয়ার পরিবারের অভিযোগ, মৃত্যুর পর তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিগত মালামাল লুট হয়ে যায়। প্রথমে ভ্রমণ ভিসায় কম্বোডিয়ায় গিয়ে পরে বিজনেস ভিসা নেওয়ায় তিনি বাংলাদেশ সরকারের জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর আনুষ্ঠানিক নিবন্ধনের আওতায় ছিলেন না। মূলত এ কারণেই তাঁর মরদেহ দেশে ফেরাতে বড় ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়। বিভিন্ন মাধ্যম থেকে মরদেহ দেশে পাঠাতে ৭ থেকে ৮ হাজার মার্কিন ডলার দাবি করা হলেও ঋণগ্রস্ত পরিবারের পক্ষে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ জোগাড় করা সম্ভব হয়নি।
আরও
কোনো উপায় না দেখে মিন্টু মিয়ার স্ত্রী তোফা খানম গত বছরের ৭ নভেম্বর বেসরকারি সংস্থা উইটনেস ফাউন্ডেশনের কাছে আইনি ও প্রশাসনিক সহযোগিতা চান। পরে সংস্থাটি ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগের মাধ্যমে সরকারি খরচে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করে। উইটনেস ফাউন্ডেশনের কমিউনিকেশন কো-অর্ডিনেটর রাগীব হাসান জানান, যথাযথ সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয়ের মাধ্যমেই দীর্ঘ প্রায় এক বছর পর এই প্রবাসীর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।










