হরমুজ প্রণালির কাছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ উপকূল থেকে একটি বাণিজ্যিক জাহাজ জব্দ করার খবর পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, ফুজাইরাহ থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে নোঙর করা অবস্থায় অজ্ঞাত ব্যক্তিরা জাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। বর্তমানে জব্দকৃত জাহাজটিকে ইরানের জলসীমার দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে ঠিক কোন গোষ্ঠী বা কারা এই জাহাজটি জব্দ করেছে, তা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। সংবাদের সূত্রমতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘাত শুরুর পর এবং সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে একাধিক জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইরান গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালিটি বন্ধ করে রেখেছে এবং বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরগুলোর ওপর নৌ-অবরোধ আরোপ করেছে। উল্লেখ্য, এই সংঘাত শুরুর আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশই এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো।
হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে গত রোববার দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় তাদের একটি কার্গো জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। পরবর্তীতে কাতারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে তাদের জলসীমার দিকে আসার পথে ড্রোনের মাধ্যমে ওই হামলার ঘটনা ঘটে। একের পর এক এ ধরনের হামলার ঘটনায় ওই অঞ্চলে চলাচলকারী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
আরও
এদিকে, প্রণালিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই সপ্তাহ আগে ওই অঞ্চলে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে জাহাজ চলাচলের জন্য একটি বিশেষ সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে এই উদ্যোগে আঞ্চলিক মিত্রদের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত সাড়া মেলেনি। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার আশঙ্কায় সৌদি আরব ও বাহরাইন তাদের আকাশসীমা এবং সামরিক ঘাঁটিগুলো মার্কিন সেনাদের ব্যবহারের জন্য বন্ধ করে দেয়। মিত্র দেশগুলোর এমন অসহযোগিতার কারণে ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত তাঁর সেই সামরিক অভিযানের সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে যেতে বাধ্য হন বলে জানা গেছে।










