ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত জোটের মধ্যকার বহুল আলোচিত ও নাজুক যুদ্ধবিরতি নতুন করে চরম উত্তেজনার মুখে পড়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমার দিকে ধেয়ে আসা অন্তত দুটি ইরানি ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত করেছে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এর ঠিক আগেই রাতভর কুয়েতমুখী একাধিক ড্রোন হামলার ঘটনাও ঘটে। একের পর এক এমন অনাকাঙ্ক্ষিত সামরিক তৎপরতার ফলে ওই অঞ্চলে সদ্য কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতা নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নতুন করে বড় ধরনের প্রশ্ন ও সংশয় দেখা দিয়েছে।
আকাশপথে উত্তেজনার পাশাপাশি সমুদ্রপথেও বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। কাতারের উপকূলের কাছে অবস্থানরত একটি বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজে অজ্ঞাত উৎস থেকে ছোড়া প্রজেক্টাইল বা গোলার আঘাতে আগুন ধরে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীর সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটি জানায়, প্রজেক্টাইলের আঘাতের ফলে জাহাজে ছোট আকারের আগুন লাগলেও তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে এবং স্বস্তির বিষয় হলো, এ ঘটনায় কোনো ক্রু বা নাবিকের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
উপসাগরীয় অঞ্চলের সামুদ্রিক রুটগুলোতে গত কয়েক দিন ধরেই এক চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও গত এক সপ্তাহ ধরে পারস্য উপসাগর ও এর আশপাশের প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলো বারবার রহস্যজনক হামলার মুখে পড়ছে। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক রুটে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর এমন অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার কারণে সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানি ও সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে গভীর উদ্বেগ বেড়েই চলেছে।
আরও
পারস্য উপসাগরে চলাচলকারী জাহাজে এই ধারাবাহিক হামলা এবং আমিরাত ও কুয়েতমুখী ড্রোন হামলার জন্য পশ্চিমা বিশ্ব ও তাদের মিত্ররা সরাসরি ইরানকে দায়ী করছে। যদিও এসব হামলায় নিজেদের জড়িত থাকার বিষয়ে তেহরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক স্বীকারোক্তি বা দায় স্বীকারের বিবৃতি আসেনি। তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি দায় স্বীকার না করলেও এসব ঘটনা প্রমাণ করে যে, পর্দার আড়ালে চরম উত্তেজনা এখনো চলমান রয়েছে, যা যেকোনো সময় বর্তমানের এই নাজুক যুদ্ধবিরতিকে ভেঙে দিয়ে পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে আবারও এক ভয়াবহ ও বৃহত্তর সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।











