চলতি সপ্তাহে ইরান যুদ্ধে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতার ঠিক কয়েক দিন আগে দেশটিকে বড় ধাক্কা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখা ৩৫০ কোটি (৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার ফেরত চেয়েছে আবুধাবি।
পাকিস্তানের ওপর সংযুক্ত আরব আমিরাতের এমন অসন্তোষ প্রকাশের পর বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ইসলামাবাদের অন্যান্য ঋণদাতারাও এখন এই পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আমিরাতের এই অর্থ তুলে নেওয়ার বিষয়টিকে নিছক একটি ‘নিয়মিত আর্থিক লেনদেন’ বলে উড়িয়ে দিলেও, এটি মূলত দেশটির মোট বৈদেশিক মুদ্রার মজুতের (রিজার্ভ) প্রায় ২১ শতাংশ। এই পদক্ষেপের পাশাপাশি আমিরাতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
গত বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ যখন ইরান যুদ্ধের যুদ্ধবিরতির শর্ত নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দেন, তখন তার জবাবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের এক ব্যবহারকারী ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, ‘যখন আমাদের নিরাপত্তা সরাসরি হুমকির মুখে পড়ে, তখন আমরা কূটনীতির কথা শুনি, কিন্তু কোনো স্পষ্ট অবস্থান দেখি না।’ অপর একটি পোস্টে আরেক নেটিজেন প্রশ্ন তুলে লেখেন, ‘বন্ধুত্বের পরীক্ষা হয় এমন মুহূর্তেই। আজ আমাদের অনেকেই শুধু একটি প্রশ্নই করছে: আপনাদের অবস্থান আসলে কোথায়?’
আরও
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইন অনুযায়ী, দেশটির মিত্রদের সমালোচনা করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সাতটি রাজতন্ত্রের এই ফেডারেশন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অত্যন্ত কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এমনকি সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সরকারি নির্দেশ অমান্য করে ইরানের হামলার ভিডিও পোস্ট করার দায়ে বহু বিদেশি নাগরিককে আটকও করা হয়েছে।
এ অবস্থায় বিশ্লেষকেরা বলছেন, যাঁরা প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে আক্রমণ করে মন্তব্য করছেন এবং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ‘সংহতির চেয়ে কূটনীতিকে প্রাধান্য দেওয়া’ ও দীর্ঘদিনের অর্থদাতা বন্ধুর বিপক্ষে যাওয়ার অভিযোগ তুলছেন, তাঁরা সম্ভবত কর্তৃপক্ষের পরোক্ষ সম্মতিতেই এসব করছেন। হংকংভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের (এসসিএমপি) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।








