ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) হামলায় ভূপাতিত হওয়া মার্কিন যুদ্ধবিমানের পাইলট ও অপর এক ক্রুকে সফলভাবে উদ্ধার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল ফোর্সের সেনারা। আজ রোববার (৫ এপ্রিল) সকালে এক বিবৃতিতে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস জানিয়েছিল, গত শুক্রবার বিমানটি ভূপাতিত হওয়ার দিনই পাইলটকে এবং গতকাল শনিবার রাতে অপর নিখোঁজ ক্রুকে উদ্ধার করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক দীর্ঘ বার্তায় এই দুঃসাহসী উদ্ধার অভিযানের কথা বিস্তারিত জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় এই উদ্ধার অভিযানের প্রশংসা করে তিনি লিখেছেন, ‘আমরা তাঁকে উদ্ধার করেছি! আমার প্রিয় দেশবাসী, গত কয়েক ঘণ্টায় মার্কিন সামরিক বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্যতম সাহসী এক অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে আমাদের একজন অসাধারণ ক্রু মেম্বার, যিনি পেশায় একজন অত্যন্ত সম্মানিত কর্নেল, তিনি এখন সম্পূর্ণ নিরাপদ ও সুস্থ আছেন।’
উদ্ধার হওয়া ওই সামরিক কর্মকর্তা ইরানের দুর্গম পাহাড়বেষ্টিত শত্রু সীমানার অনেক গভীরে আটকা পড়েছিলেন বলে জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, শত্রুরা প্রতিমুহূর্তে তাঁর খুব কাছাকাছি চলে এলেও তিনি কখনোই একা ছিলেন না। প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি নিজে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যানসহ সহযোদ্ধারা সার্বক্ষণিক তাঁর অবস্থান পর্যবেক্ষণ করছিলেন এবং উদ্ধারের জন্য সতর্ক পরিকল্পনা সাজাচ্ছিলেন। ট্রাম্প জানান, তাঁর নির্দেশনায় ওই কর্মকর্তাকে ফিরিয়ে আনতে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী মারণাস্ত্রে সজ্জিত কয়েক ডজন বিমান পাঠিয়েছিল মার্কিন সামরিক বাহিনী। সামান্য আহত হলেও তিনি খুব দ্রুতই সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে আশা প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
আরও
প্রথম পাইলটকে উদ্ধারের বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ না করার কারণও স্পষ্ট করেছেন ট্রাম্প। তিনি জানান, দ্বিতীয় অভিযানটি যেন কোনোভাবেই ঝুঁকির মুখে না পড়ে, সে জন্যই গতকাল প্রথম পাইলটকে উদ্ধারের পর বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছিল। সামরিক ইতিহাসের সাম্প্রতিক সময়ে শত্রুর সীমানার এত গভীর থেকে আলাদাভাবে দুজন মার্কিন বৈমানিককে উদ্ধারের ঘটনা এটিই প্রথম। কোনো ধরনের মার্কিন প্রাণহানি ছাড়াই দুঃসাহসী এই জোড়া অভিযান সম্পন্ন করাকে ইরানের আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের নিরঙ্কুশ আধিপত্যের চূড়ান্ত প্রমাণ বলে দাবি করেন তিনি। সবশেষে দেশবাসীকে ইস্টার সানডের শুভেচ্ছা জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী পৃথিবীর ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ বাহিনী এবং আজকের এই সাফল্য রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট দলমত-নির্বিশেষে প্রতিটি আমেরিকানের জন্য চরম গর্বের ও ঐক্যের প্রতীক।










