মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় ‘জিনের বাদশা’ পরিচয়ে এক প্রবাসীর স্ত্রীর কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় তিন লাখ টাকার স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিনব এই প্রতারণার শিকার হওয়া ওই নারীর নাম লিলুফা খাতুন। তাঁর স্বামী আশরাফুল ইসলাম মালয়েশিয়ায় প্রবাসী। এই ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী লিলুফা খাতুন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই মাস আগে গভীর রাতে একটি অচেনা নম্বর থেকে লিলুফার মুঠোফোনে একটি কল আসে। ফোন ধরতেই অপর প্রান্তের ব্যক্তি নিজেকে ‘জিনের বাদশা’ হিসেবে পরিচয় দেন। সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলে বা এ ঘটনা কাউকে জানালে পরিবারের বড় ধরনের ক্ষতি হবে বলে তাঁকে ভয় দেখানো হয়। এরপর থেকে নিয়মিত মধ্যরাতে ফোন করে ওই ব্যক্তি নিজেকে লিলুফার ‘বাবা’ পরিচয় দিয়ে বিপুল ধনসম্পদ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখাতে থাকেন।
প্রতারণার এই ধারাবাহিকতায় গত শনিবার রাতে ওই ব্যক্তি ফোন করে লিলুফাকে জানান, গাংনী বড় মসজিদের পেছনে একটি ‘স্বর্ণের মূর্তি’ রাখা আছে। সেটি সংগ্রহ করে বাড়ির গোপন স্থানে রাখতে বলা হয়। এর বিনিময়ে লিলুফাকে তাঁর নিজের ব্যবহৃত সব স্বর্ণালংকার একটি নির্দিষ্ট স্থানে রেখে আসতে নির্দেশ দেন ওই প্রতারক এবং পরদিন সকালে সেখান থেকে নিজের স্বর্ণালংকার ফেরত নিতে বলেন। নির্দেশ অনুযায়ী লিলুফা খাতুন তাঁর স্বর্ণের চেইন, দুল, চুড়িসহ বিভিন্ন গয়না নির্ধারিত স্থানে রেখে ওই মূর্তিটি বাড়িতে নিয়ে আসেন।
আরও
পরদিন রোববার দুপুরে লিলুফা তাঁর রেখে আসা স্বর্ণালংকার আনতে গিয়ে দেখেন, সেখানে কিছুই নেই। পরে সন্দেহ হলে তিনি ওই মূর্তিটি স্থানীয় এক স্বর্ণকারের কাছে নিয়ে যান। সেখানে পরীক্ষা করে জানা যায়, সেটি স্বর্ণের নয়, বরং পিতল বা কাঁসার তৈরি একটি সাধারণ মূর্তি। ভুক্তভোগী নারী জানান, এই ঘটনায় তাঁর প্রায় তিন লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার খোয়া গেছে। এদিকে খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন ওই মূর্তি দেখতে তাঁর বাড়িতে ভিড় জমান। এ বিষয়ে গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার বলেন, এটি একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের কাজ বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।










