ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মজলিশপুর ইউনিয়নের তরুণ মো. অনিক মিয়াকে প্রলোভন দেখিয়ে সৌদি আরবে পাঠিয়ে সেখানে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক দালালচক্রের বিরুদ্ধে। পরিবার জানায়, উচ্চ বেতনের ড্রাইভিং ভিসার আশ্বাসে স্থানীয় দালাল মার্জিয়া বেগম ও ইউপি সদস্য শরিফুল ইসলাম প্রায় ৫ লাখ টাকা নিয়ে অনিককে প্রবাসে পাঠান। তবে সৌদিতে যাওয়ার ১৫ দিনের মাথায় তার সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
দুই মাস পর একটি অচেনা নম্বর থেকে পাঠানো ভয়েস রেকর্ডে অনিক জানান, তাকে চার লাখ টাকায় এক সৌদি নাগরিকের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। রেকর্ডে তিনি বলেন, তার পাসপোর্ট ও মোবাইল কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং একটি ঘরে আটকে রেখে অমানবিক পরিস্থিতিতে তাকে শ্রমে বাধ্য করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি বাবা-মাকে অনুরোধ করেন দালালদের মাধ্যমে তাকে উদ্ধার করতে।
পরিবার অভিযোগ করে যে, বিষয়টি জানানো সত্ত্বেও অভিযুক্ত দালাল শরিফ মেম্বার ও মার্জিয়া বেগম এক মাস ধরে ‘ব্যবস্থা নেওয়া হবে’ বলে সময়ক্ষেপণ করেন। ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের মধ্যস্থতায় একাধিক বৈঠক হলেও কোনো সমাধান মিলেনি। পরিবার আরও দাবি করেছে, সৌদি আরবে অবস্থানরত রাজ্জাক নামের একজনের সহযোগিতায় একটি সংগঠিত বাংলাদেশি দালালচক্র অনিককে বিক্রি করেছে।
আরও
নিরুপায় হয়ে অনিকের মা রিমালা বেগম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মার্জিয়া বেগম, শরিফ মেম্বার ও সুমা আক্তারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। পরিবারের দাবি, অনিককে উদ্ধারে এখনো কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে মজলিশপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম জানান, বিষয়টি জানার পর তিনি উদ্ধার প্রক্রিয়ায় সহায়তা করছেন। তার ভাষ্য, অনিক বর্তমানে সৌদি আরবের মরুভূমি এলাকায় অবস্থান করছে বলে জানতে পেরেছেন এবং সেখানে পৌঁছে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানানোর চেষ্টা চলছে।












