ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী তারকা ও রিয়াল মাদ্রিদের কিংবদন্তি ফুটবলার রবার্তো কার্লোস তাঁর ইসলাম গ্রহণের গুঞ্জনকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। মরক্কোর বংশোদ্ভূত সুহাইলা আল-তাহিরির সঙ্গে বিয়ের পর সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও তুর্কি গণমাধ্যমে তাঁর ধর্মান্তরিত হওয়ার খবরটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। তবে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে সৌদি আরবের গণমাধ্যম ‘ওকাজ’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৫৩ বছর বয়সী কার্লোস স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইসলাম ধর্মের প্রতি তাঁর গভীর শ্রদ্ধা থাকলেও ধর্মান্তরিত হওয়ার খবরটি একেবারেই সত্য নয়।

তুরস্কের ক্ষমতাসীন দল একে পার্টির সংসদ সদস্য আলী শাহিনের একটি বক্তব্য থেকে মূলত এই গুজবের সূত্রপাত হয়েছিল। তিনি দাবি করেছিলেন, কার্লোস ব্রাজিলের এক প্রভাবশালী মুসলিম আলেমের কাছে শাহাদাত পাঠ করে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। গুজবের বিষয়টি পরিষ্কার করতে গিয়ে কার্লোস তাঁর বিয়ের অনুষ্ঠানের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি জানান, দুজনের ভিন্ন ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি সম্মান জানাতেই তাঁদের বিয়ের আয়োজনটি দুটি পৃথক রীতিতে সম্পন্ন হয়েছিল। তাঁর নিজের পরিবার ক্যাথলিক খ্রিষ্টান হওয়ায় সেই রীতিতে একটি অনুষ্ঠান হয় এবং স্ত্রীর মুসলিম বন্ধুদের বিশ্বাসের প্রতি সম্মান জানিয়ে আরেকটি পৃথক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। পাশাপাশি স্ত্রী সুহাইলাকে নিয়মিত নামাজ আদায় করতে দেখাটা তাঁর কাছে এক অসাধারণ অনুভূতি বলেও মন্তব্য করেন সাবেক এই তারকা ফুটবলার।
আরও
সুহাইলা আল-তাহিরির সঙ্গে এই বিয়েটি রবার্তো কার্লোসের জীবনের তৃতীয় আনুষ্ঠানিক বিয়ে। এর আগে ২০০৩ সালে তাঁর প্রথম স্ত্রী আলেকজান্দ্রা পিনহেইরোর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ হয়, যে সংসারে তাঁর তিন সন্তান রয়েছে। এরপর ২০০৯ সালে মারিয়ানা লুকনের সঙ্গে দ্বিতীয়বারের মতো বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। দীর্ঘ ১৫ বছরের সেই সংসারের পর চলতি ২০২৫ সালের শুরুতে তাঁদেরও বিচ্ছেদ ঘটে। মারিয়ানার সংসারে কার্লোসের দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে। ব্যক্তিগত জীবনে সব মিলিয়ে সাতজন নারীর গর্ভে ১১ সন্তানের জনক রবার্তো কার্লোস। ২০১৭ সালের অক্টোবরে তাঁর মেয়ে জিওভানা পুত্রসন্তানের জন্ম দিলে তিনি নানার মর্যাদাও লাভ করেন।











