Opens in a new tab
সর্বশেষ

বেঁচে থাকতেই কবর খুঁড়ে ‘চল্লিশার’ আয়োজন, এলাকায় চাঞ্চল্য

বেঁচে থাকতেই কবর sdWeb Popup (3)

ইট-পাথরে বাঁধানো পরিপাটি একটি কবর। চারপাশে মজবুত পিলার, ওপরে ছাদ আর ছোট ছোট মিনার। দূর থেকে দেখলে সাধারণ কোনো ঘর মনে হলেও, এটি আসলে এক বৃদ্ধের নিজের জন্য প্রস্তুত করে রাখা শেষ ঠিকানা। গত পাঁচ বছর ধরে পরম যত্নে নিজের হাতে তৈরি করা এই কবরের পাশে বসেই এখন জীবনের শেষ দিনগুলোর প্রহর গুনছেন তিনি। বিস্ময়কর ও ব্যতিক্রমী এই ঘটনাটি ঘটেছে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার কুশাডাঙ্গা গ্রামে।

আব্দুর রহিম নামের ওই বৃদ্ধ কেবল নিজের জন্যই নয়, মৃত্যুর পর স্ত্রী যেন পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হতে পারেন, সে জন্য তাঁর জন্যও পাশাপাশি আরেকটি কবর খুঁড়ে রেখেছেন। প্রতিদিন নিয়ম করে তিনি এই জোড়া কবরের যত্ন নেন, নিজ হাতে পরিষ্কার করেন ধুলোবালি। মৃত্যুর পর স্বজনদের কাছে তাঁর শেষ আকুতি, তাঁদের দুজনকেই যেন এখানে পাশাপাশি দাফন করা হয়। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুর পর সন্তানরা ঠিকঠাক দাফন-কাফন করবেন কি না, মূলত এমন শঙ্কা ও মানসিক টানাপোড়েন থেকেই আব্দুর রহিম এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এমনকি মৃত্যুর পর যেন কারও ওপর আর্থিক বা মানসিক বোঝা হতে না হয়, সে জন্য জীবিত অবস্থাতেই নিজের কুলখানি, চল্লিশা ও দোয়া মাহফিলের মতো সব ধরনের ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতাও শেষ করে রেখেছেন তিনি।

জীবিত অবস্থায় নিজের মৃত্যুর এমন আগাম প্রস্তুতি ও ব্যতিক্রমী কাণ্ড দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে উৎসুক মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন আব্দুর রহিমের বাড়িতে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই বিষয়টিকে নিছক কৌতূহল ও বিস্ময়ের চোখে দেখলেও কেউ কেউ বলছেন, জীবনের চরম সত্যকে এত কাছ থেকে মেনে নেওয়ার এমন মানসিকতা সত্যিই বিরল। পৃথিবীর মায়াজাল ছিন্ন করে একদিন সবাইকে পরপারে চলে যেতে হবে—এই অমোঘ সত্যকে আব্দুর রহিম যে নিবিড়ভাবে উপলব্ধি করে প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তা এখন পুরো এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।

আরও দেখুন

whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন [email protected] মেইলে।

Web Popup (3)
Web Squre popup