Opens in a new tab
সর্বশেষ
ব্রেকিং

ইউরোপের কথা বলে মিয়ানমারে নিয়ে নির্যাতন, মুক্তিপণ

ইউরোপের কথা বলে মিয়ানমারে নিয়ে নির্যাতন, মুক্তিপণWeb Popup (3)

ইতালিতে চাকরির লোভ দেখিয়ে গাজীপুরের কালীগঞ্জের আরিফ হোসেনকে (৪৫) ফাঁদে ফেলে মিয়ানমারে নিয়ে বন্দি করে ও নির্যাতন চালিয়ে কয়েক ধাপে প্রায় ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করে মানব পাচারকারী চক্রের সদস্যরা। কিন্তু এর পরও তাকে দেশে ফিরতে দেয়নি ওই চক্র।

এ ঘটনায় জড়িত এক রোহিঙ্গাসহ মানব পাচারকারী চক্রের চার সদস্যকে কক্সবাজার থেকে গ্রেপ্তার করেছে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ। এ ছাড়াও বন্দি আরিফকে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিরা হলো- কক্সবাজারের মোস্তাক আহমেদ (৫৪), বোরহান (২১), টেকনাফের তৈয়ব (২১) এবং উখিয়ায় বসবাস করা রোহিঙ্গা মো. উল্লাহ (৩৮)। বন্দি আরিফ হোসেন কালীগঞ্জের চুয়ারিয়াখোলা এলাকার জয়নাল আবেদিনের ছেলে।

পুলিশ ও বন্দির স্বজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী জানা গেছে, আরিফ হোসেন দুই বছর আগে মালয়েশিয়ায় কর্মরত থাকা অবস্থায় দূর সম্পর্কের আত্মীয়ের মাধ্যমে তার পরিচয় হয় কক্সবাজারের রামুর পশ্চিম সিকদার পাড়ার কামাল উদ্দিনের ছেলে আবদুল্লাহ আল মামুন (৩০) এবং পূর্ব কলাতলির মীর কাশেমের ছেলে মোস্তাক আহমেদসহ অজ্ঞাত তিন/চারজনের সঙ্গে। সে সময় তারা বিদেশে লোক পাঠানোর ব্যবসা করে বলে জানায়। ২০২৩ সালে মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরে আসেন আরিফ হোসেন। এরপর তাকে ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখায় মামুন ও মোস্তাক। একপর্যায়ে ৬ লাখ টাকায় ইতালি যাওয়ার জন্য ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তাদের সঙ্গে চুক্তি করেন তিনি।

এরপর ১১ ডিসেম্বর আবদুল্লাহ আল মামুনের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১ লাখ টাকা এবং ১৭ ডিসেম্বর আরও ১ লাখ টাকা পাঠানো হয়। পাশাপাশি নগদ আরও ৩ লাখ টাকা দেওয়া হয়। এরপর তারা আরিফকে প্রথমে মিয়ানমারে নিয়ে পরে ইতালি পাঠানোর কথা বলে ১১ ডিসেম্বর বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। মিয়ানমারে নেওয়ার পর তারা আরিফকে বন্দি করে নির্যাতন করতে থাকে। পরবর্তীতে অপহরণকারীরা অজ্ঞাত মোবাইল নম্বর থেকে কল দিয়ে আরিফের মাধ্যমেই তার পরিবারকে জানায়, ১ লাখ টাকা পাঠালে তাকে মুক্তি দেওয়া হবে। এরপর ১ জানুয়ারি মামুনের ইসলামী ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে ১ লাখ টাকা পাঠানো হয়। কিন্তু তারা আরিফকে মুক্তি দেয়নি। এরপর আরও ৪ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে চক্রের সদস্যরা। টাকা না দিলে আরিফকে হত্যার হুমকি দেয় তারা। পরে ৫ জানুয়ারি তাদের দেওয়া একাধিক বিকাশ নম্বরে ৪ লাখ টাকা পাঠানো হয়। কিন্তু টাকা পাওয়ার পর অভিযুক্তরা তাদের সব মোবাইল ফোন বন্ধ করে রাখে।

একপর্যায়ে ১৮ জানুয়ারি আরিফের স্ত্রী সুলতানা বেগম সার্বিক বিষয় উল্লেখ করে প্রথমে কালীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এরপর ২৬ জানুয়ারি মানব পাচার ও লোভ দেখিয়ে বিদেশে নিয়ে আটক করে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে কালীগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, এ ঘটনায় জড়িতরা আন্তর্জাতিক মানব পাচারকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য। তদন্তের একপর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে জানা যায়, আসামি মোস্তাক কক্সবাজারে অবস্থান করছে। পরে কক্সবাজারে অভিযান চালিয়ে ২০ ফেব্রুয়ারি মোস্তাককে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার রাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে মানব পাচারকারী চক্রের আরও তিন সদস্যকে কক্সবাজার ও টেকনাফ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আলাউদ্দিন গতকাল বলেন, ‘চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় এক রোহিঙ্গাসহ আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।’ ওসি আরও বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার আসামিরা জানিয়েছেন, ভিকটিম আরিফ বর্তমানে মিয়ানমারে আছেন। তাকে উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

আরও দেখুনঃ

খবরটি শেয়ার করুন:
whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন [email protected] মেইলে।

Web Popup (3)
Web Squre popup