Opens in a new tab
সর্বশেষ

সৌদিতে বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু, দালালকে দুষছেন পরিবার

Bangladeshi youth dies in Saudi Arabia, family blames brokerWeb Popup (3)

ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় স্থানীয় এক দালালের মাধ্যমে সৌদি আরবে পাড়ি জমান দরিদ্র পরিবারের সন্তান পলাশ মিয়া (৩০)। তবে সেখানে গিয়ে ভাগ্যের চাকা না ঘোরার উল্টো করুণ পরিণতি বরণ করতে হয়েছে তাঁকে। অভাব আর কষ্টের যন্ত্রণায় গত ২৬ এপ্রিল, ২০২৫, শনিবার সৌদি আরবে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। এখন তাঁর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। পলাশের পরিবার অন্তত তাঁর লাশটি দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করার জন্য আকুল আবেদন জানিয়েছে। একইসঙ্গে ওই দালালকে অভিযুক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা।

নিহত পলাশ মিয়া নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের কাউরাট ইটাচকি গ্রামের মৃত তোতা মিয়ার ছেলে।

পলাশের স্বজনরা জানান, প্রায় নয় মাস আগে স্থানীয় দালাল নওপাড়া ইউনিয়নের কুতুবপুর গ্রামের প্রণয় সাহার মাধ্যমে ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে সৌদি আরবে যান পলাশ। পরিবারের শেষ সম্বল বিক্রি করে এবং ধারদেনা করে সেই টাকা জোগাড় করা হয়েছিল। দালাল ভালো কাজের ও ভালো বেতনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁকে সৌদি আরবে পাঠিয়েছিল।

তবে বাস্তবে পলাশের ভাগ্যে ঘটে সম্পূর্ণ বিপরীত ঘটনা। সৌদি আরবে গিয়ে দালাল প্রতিশ্রুত কাজ পাননি তিনি, নিয়মিত বেতনও জোটেনি। দালাল বৈধ কাগজপত্র দেওয়ার কথা বললেও তা দেওয়া হয়নি। উপরন্তু ধারদেনা করে বিদেশ যাওয়ার টাকার চাপ এবং অভাবের তাড়নায় তিনি ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে পড়েন। অবশেষে গত ২৫ এপ্রিল, শুক্রবার রাতে সৌদি আরবের কোনো এক সময় গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন পলাশ। এই মর্মান্তিক খবর শনিবার রাতে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে শোকের মাতম শুরু হয়।

রবিবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে পলাশের মা সেলিনা আক্তার, বোন কামরুন্নাহারসহ অন্যান্য স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দালাল প্রণয় সাহা ভালো বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে এবং বৈধ কাগজপত্র দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পলাশের কাছ থেকে ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেয়। কিন্তু বিদেশে যাওয়ার পর কোনো প্রতিশ্রুতিই রক্ষা করেনি সে। পলাশের পরিবার বার বার দালালের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও সে বারবার কালক্ষেপণ করে। অবশেষে টাকার অভাবে না খেয়ে এবং অসুস্থ হয়ে পলাশ আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে পলাশের মা সেলিনা আক্তার বলেন, তাঁর অনেক স্বপ্ন ছিল ছেলে বিদেশে গিয়ে টাকা পাঠাবে। কিন্তু দালালের কারণে সব শেষ হয়ে গেল। তিনি তাঁর ছেলের লাশ ফেরত চান এবং ওই দালালের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।

তবে অভিযুক্ত দালাল প্রণয় সাহা দাবি করেন, পলাশকে বৈধ ভিসাতেই সৌদি পাঠানো হয়েছিল এবং প্রথম তিন মাসের আকামাও করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে কোম্পানির আইডি ব্লক হয়ে যাওয়ায় আকামা আর নবায়ন করা যায়নি। তিনি আরও বলেন, পলাশ সেখানে ছয় মাস কাজ করে বেতন পেয়েছেন এবং দুই মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। পলাশের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ ছিল এবং সৌদি আরবে যাওয়ার পর পলাশ অসুস্থ হয়ে কয়েকবার চিকিৎসাও নিয়েছিলেন। পলাশের আত্মহত্যার জন্য তিনি দায়ী নন বলেও দাবি করেন প্রণয় সাহা।

কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, এই ঘটনায় থানায় এখনো কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরও দেখুন

খবরটি শেয়ার করুন:
whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন [email protected] মেইলে।

Web Popup (3)
Web Squre popup