রাজধানীর উত্তরা এলাকায় ব্যাংকে জমা দিতে যাওয়ার পথে ডিএল পেট্রলপাম্পের ১ কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রোববার সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে উত্তরা র্যাব-১ ব্যাটালিয়নের দক্ষিণ পাশে এ ঘটনা ঘটে। ছিনতাইয়ের শিকার প্রতিষ্ঠানটির মালিক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খালাতো ভাই তাসীন আক্তার হক।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, তিনটি মোটরসাইকেলে আসা কয়েকজন দুর্বৃত্ত টাকা বহনকারী গাড়িটির গতিরোধ করে। একপর্যায়ে তারা গাড়িতে ধাক্কা দিয়ে সেটি থামায় এবং ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে টাকার ব্যাগটি ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ডিএল পেট্রলপাম্পের ব্যবস্থাপক করিম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ছিনতাই হওয়া টাকার পরিমাণ ১ কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির মালিকানার সঙ্গে যুক্ত তাসীন আক্তার হক প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বড় বোন এবং সাবেক মন্ত্রী খুরশীদ জাহান হকের ছোট ছেলে। তিনি সম্পর্কে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খালাতো ভাই। খুরশীদ জাহান হক তিনবারের সংসদ সদস্য ছিলেন এবং তৎকালীন সরকারের মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
আরও
পেট্রলপাম্পের কর্মীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটিতে প্রতিদিন প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ লাখ টাকার লেনদেন হয়। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিদিনের বিক্রির টাকা সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে ব্যাংকে জমা দেওয়ার জন্য নিয়ে যাওয়া হতো। সাপ্তাহিক ছুটিতে শুক্র ও শনিবার ব্যাংক বন্ধ থাকায় ওই দুই দিনের টাকা পরবর্তী কর্মদিবস রোববার একসঙ্গে জমা দেওয়া হয়। ফলে গতকাল টাকার পরিমাণ তুলনামূলক বেশি ছিল। দীর্ঘদিনের এই নিয়মের বিষয়টি ছিনতাইকারীদের আগে থেকেই জানা ছিল কি না এবং টাকা বহনের নির্দিষ্ট সময় ও পথ সম্পর্কে কেউ তাদের তথ্য সরবরাহ করেছিল কি না, তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এখন পর্যন্ত ছিনতাইয়ে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় বা তাদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের নম্বর শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। তবে ছিনতাই হওয়া টাকা উদ্ধার এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক ইউনিট কাজ করছে। এ বিষয়ে উত্তরা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) তারেক আহমেদ বেগ জানান, এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। তবে পুলিশের একাধিক ইউনিট নিবিড়ভাবে কাজ করছে এবং শিগগিরই আসামিদের গ্রেপ্তার করে ঘটনার রহস্য উন্মোচন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।










