লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার লামচর ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামে গভীর রাতে এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় আটক হয়েছেন এক সৌদিপ্রবাসী ব্যক্তির স্ত্রী। পরে ওই নারী প্রবাসী স্বামী ও চার বছরের এক সন্তানকে রেখে ওই ব্যবসায়ীকেই বিয়ে করেছেন বলে জানা গেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে স্বামী বিদেশে থাকার সুযোগে ওই নারী পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। সম্প্রতি গভীর রাতে স্থানীয় বেড়ীর বাজারের এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় এলাকাবাসীর হাতে ধরা পড়ার পর তাঁদের এই সম্পর্কের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এরপর থেকেই স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অনেকেই বলছেন, অর্থ উপার্জনের জন্য পরিবার ছেড়ে প্রবাসে থাকা স্বামীদের বিশ্বাস ও ত্যাগ আজ নানা কারণে ভেঙে পড়ছে, যা সমাজের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
এই ঘটনায় স্থানীয়দের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একজন প্রবাসী দিনের পর দিন হাড়ভাঙা খাটুনি করে পরিবারের ভরণপোষণ করেন। সেই সংসারে যদি বিশ্বাস ও নৈতিকতা না থাকে, তবে তা পুরো সমাজের জন্যই অশনিসংকেত। সচেতন মহল ঘটনাটিকে পারিবারিক বন্ধন ও সামাজিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় হিসেবে দেখছেন। পাশাপাশি ওই দম্পতির চার বছর বয়সী শিশুটির ভবিষ্যৎ নিয়েও তাঁরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
আরও
সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তির অপব্যবহার, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার দীর্ঘ দূরত্ব এবং নৈতিক শিক্ষার অভাবের কারণেই সমাজে এ ধরনের ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। বিদেশের মাটিতে কঠোর পরিশ্রম করা প্রবাসীদের এমন মানসিক আঘাত থেকে রক্ষা করতে এবং সুস্থ সমাজব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে পরিবারে পারস্পরিক বিশ্বাস ও সচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। সচেতনতার অভাব হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আরও ভয়াবহ সামাজিক সংকট তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন তাঁরা।









