মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ফজরের নামাজের প্রস্তুতিকালে মসজিদে ঢুকে এক মুসল্লিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। আজ রোববার (৩ মে) ভোরে উপজেলার পশ্চিম লইয়ারকুল জামে মসজিদে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম হাফিজ মিয়া এবং তিনি ওই এলাকারই স্থানীয় বাসিন্দা। পবিত্র একটি ধর্মীয় উপাসনালয়ে এমন প্রকাশ্যে রক্তপাতের ঘটনায় গোটা এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও গভীর আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতোই রোববার ভোরে ফজরের নামাজ আদায় করতে পশ্চিম লইয়ারকুল জামে মসজিদে গিয়েছিলেন হাফিজ মিয়া। নামাজের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার সময় হঠাৎ করেই একই এলাকার বাসিন্দা জসিম মিয়া ধারালো অস্ত্র হাতে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। উপস্থিত মুসল্লিরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই জসিম মসজিদের ভেতরেই হাফিজ মিয়াকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। ধারালো অস্ত্রের গুরুতর আঘাতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়ে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়ে প্রাণ হারান তিনি।
এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পেছনের প্রকৃত কারণ এখনো পরিষ্কারভাবে জানা যায়নি। তবে একটি পবিত্র ধর্মীয় উপাসনালয়ের ভেতরে এমন পৈশাচিক ও সহিংস হামলায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ঘাতক জসিম মিয়াকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
আরও
এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্না গণমাধ্যমকে জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত হামলাকারীকে আটক করেছে এবং সে বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। ঠিক কী কারণে বা কোনো পূর্বশত্রুতার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কি না, তা উদ্ঘাটনে পুলিশের নিবিড় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং অভিযুক্ত জসিমের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়েরসহ আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।












