মুসলিম উম্মাহর অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ। ‘আজহা’ শব্দের অর্থ ত্যাগ, যার মাধ্যমে মহান সৃষ্টিকর্তার নৈকট্য লাভ করা হয়। প্রতিবছর আরবি জিলহজ মাসের ১০ তারিখ চরম আনন্দ ও ত্যাগের উজ্জ্বল মহিমা নিয়ে বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের কাছে হাজির হয় এই পবিত্র দিনটি। এ বছর এই পবিত্র উৎসব কবে উদযাপিত হবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যে জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব-নিকাশ ও সম্ভাব্য তারিখ সামনে আসতে শুরু করেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের মহাকাশ ও জ্যোতির্বিদ্যা হাব ইতিমধ্যে ঈদুল আজহার একটি সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করেছে। সংস্থাটির পরিচালক প্রফেসর আল নাইমির দেওয়া বৈজ্ঞানিক হিসাব-নিকাশ অনুযায়ী, এ বছর পবিত্র হজ বা আরাফাতের দিন হতে পারে ২৬ মে এবং সে অনুযায়ী দেশটিতে পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হতে পারে ২৭ মে। তাঁরা এই বৈজ্ঞানিক তথ্য ইতিমধ্যে সরকারের কাছে হস্তান্তর করেছেন; তবে ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী ঈদের চূড়ান্ত তারিখটি কেবল সরাসরি নতুন চাঁদ দেখার ওপরই নির্ভর করে নির্ধারণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের দেশগুলোতেও ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। মুসলিম জীবনবিষয়ক শীর্ষস্থানীয় মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘হাইফেন অনলাইন’ জানিয়েছে, নতুন চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে ইংরেজি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আগামী ২৭ মে (বুধবার) অথবা ২৮ মে (বৃহস্পতিবার) ওই অঞ্চলে ঈদুল আজহা শুরু হতে পারে। তবে যেহেতু পুরো ইসলামী বর্ষপঞ্জি চন্দ্রচক্র বা চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল, তাই আকাশে জিলহজ মাসের নতুন চাঁদ নিশ্চিতভাবে দেখা না যাওয়া পর্যন্ত ঈদের সঠিক তারিখ চূড়ান্ত করা সম্ভব নয় বলে সংবাদমাধ্যমটি উল্লেখ করেছে।
আরও
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে সাধারণত এক দিন পর বাংলাদেশে পবিত্র ঈদ উদযাপিত হয়ে থাকে। সেই প্রচলিত হিসাব অনুযায়ী, যদি সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে আগামী ২৭ মে পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হয়, তবে ভৌগোলিক অবস্থান ও চাঁদ দেখার স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী আগামী ২৮ মে (বৃহস্পতিবার) বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দেশের আকাশে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার পর ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটিই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবে।











