সৌদি আরবের ইয়েমেন সীমান্তবর্তী শিল্পনগরী জিজানে অবস্থিত দেশটির রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি ‘সৌদি আরামকো’র তেল অবকাঠামোয় নতুন করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত এক মাসেরও কম সময়ের ব্যবধানে এই নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো একই শোধনাগারে হামলা চালানো হলো। এর আগে গত মাসে হওয়া হামলায় স্থাপনাটির তেল উৎপাদন কার্যক্রমের কিছু অংশ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। নতুন এই হামলার খবর প্রকাশ্যে আসার পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের (ব্রেন্ট ক্রুড) দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৭ দশমিক ৪০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, আরামকোর তেল অবকাঠামোয় হওয়া এই হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা বর্তমানে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। সূত্রটি জানিয়েছে, এবারের হামলার তীব্রতা ও পরিধি গত মাসের হামলার কাছাকাছি পর্যায়ের। তবে হামলার সার্বিক বিষয়ে সৌদি আরামকো কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি। দিনে প্রায় ৪ লাখ ব্যারেল তেল পরিশোধনের সক্ষমতাসম্পন্ন জিজানের এই শোধনাগারটি সৌদি আরবের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি অবকাঠামো। গত মাসের হামলা প্রসঙ্গে আরামকোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আমিন নাসের জানিয়েছিলেন, সে সময় উৎপাদনে কিছুটা বিঘ্ন ঘটলেও তা কোম্পানির সামগ্রিক আর্থিক বা পরিচালন পরিস্থিতিতে বড় কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলেনি।
আরও
সর্বশেষ এই হামলার দায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো পক্ষ স্বীকার না করলেও ভৌগোলিক ও কৌশলগত কারণে সন্দেহের তির ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের দিকেই রয়েছে। গত জুলাইয়ে সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূলীয় বন্দরগুলোতে অবরোধের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে দেশটির তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে দফায় দফায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা জোরদার করেছে হুতিরা। এর প্রভাবে জ্বালানি রপ্তানিতে বড় ধরনের স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। বাজার বিশ্লেষণকারী সংস্থা কেপলারের তথ্যানুযায়ী, হুতিদের ধারাবাহিক আক্রমণের মুখে গত আগস্টে জিজান থেকে পরিশোধিত তেলের কোনো চালান বাইরে পাঠানো সম্ভব হয়নি।
২০১৫ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি জোটের হস্তক্ষেপ এবং ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর দীর্ঘ সময় বড় সংঘাত না হলেও সম্প্রতি সেই পরিস্থিতি ভেঙে পড়েছে। গত সপ্তাহান্তে লোহিত সাগর উপকূল ধরে বাব আল-মানদেব প্রণালির দিকে অগ্রসর হতে হুতিরা নতুন করে বড় ধরনের স্থল অভিযান শুরু করায় পুরো অঞ্চলটিতে গত ছয় বছরের মধ্যে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী লড়াই চলছে। আর এই যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই আবারও সৌদি আরবের প্রধান জ্বালানি শোধনাগারে আঘাত হানার ঘটনা ঘটল।












