সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের মানফুয়া এলাকায় একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৭ জন বাংলাদেশি প্রবাসীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সাতজন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে উপজেলা প্রশাসন। গতকাল রোববার দুপুরে কারখানাটিতে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরে রাতে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক শোকবার্তায় ওই সাতজনের মৃত্যুর তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়।
নিহত ওই সাত প্রবাসী হলেন আত্রাই উপজেলার বিশা ইউনিয়নের ডুবাই গ্রামের মৃত বাদলের ছেলে সুমন (৩৫) ও একই গ্রামের চঞ্চলের ছেলে হাসিবুল হাসান শুভ (২৭), কালিকাপুর ইউনিয়নের গন্ডগোহালী গ্রামের মৃত গুফফার প্রামাণিকের ছেলে মহুন প্রামাণিক (৪২) ও সুমুন প্রামাণিক, একই গ্রামের রুবেল হোসেন (৩০) ও ফজলুর প্রামাণিকের ছেলে কলি প্রামাণিক (৩৫) এবং পারকাসুন্দা গ্রামের আবদুল জলিল (৩৮)। পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জীবিকার তাগিদে বিভিন্ন গ্রাম থেকে সৌদি আরবে গিয়ে তাঁরা রিয়াদ শহরের ওই সোফা তৈরির কারখানায় কাজ করতেন।
আরও
আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান রোববার রাতে জানান, সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে আত্রাই উপজেলার সাতজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে গন্ডগোহালী গ্রামের চারজন, ডুবাই গ্রামের দুজন এবং পারকাসুন্দা গ্রামের একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে নিহতের এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে মর্মান্তিক এই অগ্নিকাণ্ডে প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকদের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। এক শোকবার্তায় মন্ত্রী বলেন, সৌদি আরবে কর্মরত এই প্রবাসীদের এমন অকালমৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক এবং দেশের অর্থনীতিতে তাঁদের অবদান অপরিসীম। নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তিনি আরও জানান, সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে দুর্ঘটনাস্থল ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। নিহত প্রবাসীদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং তাঁদের পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সরকারি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ইতিমধ্যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।







