লোহিত সাগরের তীরবর্তী ইয়েমেনের মোখা শহরে সৌদি বাহিনীর ওপর বড় ধরনের সুনির্দিষ্ট সামরিক অভিযান চালানোর দাবি করেছে ইরান–সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি। ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলে সৌদি আরবের ধারাবাহিক আক্রমণ ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের প্রতিক্রিয়ায় এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে গোষ্ঠীটি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
হুতিদের দাবি, মোখায় চালানো এই হামলা ছিল অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট। বিপুলসংখ্যক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে এই অভিযান চালানো হয়। এর ফলে সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্রের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি সৌদি নাগরিকসহ বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন। এক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ইয়েমেনের জনগণকে লক্ষ্যবস্তু বানানো এবং তাদের সন্তানদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার কোনো সুযোগ সৌদি আরবকে দেওয়া হবে না।
এদিকে হামলার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ছবিতে মোখা শহরের ওপর দিয়ে ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী উড়তে দেখা গেছে। তবে এসব ছবির সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি সংবাদমাধ্যম। এ বিষয়ে ইয়েমেনের জাতিসংঘ–সমর্থিত সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সাড়া পাওয়া যায়নি।
আরও
ইয়েমেনে এক দশকের বেশি সময় ধরে হুতি গোষ্ঠী এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেনি সরকারের পক্ষে থাকা সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত চলছে। ২০১১ সালের আরব বসন্তের পর হুতিরা প্রথমে ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলের একটি প্রদেশ এবং পরে রাজধানী সানা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। লোহিত সাগরের উপকূলের বড় একটি অংশও এখনো তাদের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে। এরপর ২০১৫ সালে হুতিদের উৎখাতে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র সৌদি আরব। প্রায় সাত বছর ধরে চলা সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘস্থায়ী এই যুদ্ধ ইয়েমেনকে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে।









