সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দুই ভাইসহ তিন প্রবাসী বাংলাদেশিকে অপহরণের পর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের অভিযোগ, সংঘবদ্ধ একটি চক্র তাঁদের আটকে রেখে মারধর করে এবং ভিডিও কলে তা স্বজনদের দেখিয়ে মুক্তিপণ দাবি করে। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে দেড় লাখ টাকা দেওয়ার পর প্রায় ২০ ঘণ্টা পর তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
অপহৃত ওই তিন প্রবাসী হলেন বাঞ্ছারামপুর উপজেলার চরশিবপুর গ্রামের মোসলেম মিয়ার দুই ছেলে মো. কাউছার মিয়া ও মো. ইসলাম এবং একই উপজেলার ছলিমাবাদ গ্রামের আলম মিয়ার ছেলে মো. মাসুদ মিয়া। সম্পর্ক অনুযায়ী মাসুদ হলেন কাউছার ও ইসলামের খালু। পারিবারিক সূত্র জানায়, কাউছার তিন বছর আগে এবং তাঁর ছোট ভাই ইসলাম মাত্র এক মাস আগে জীবিকার সন্ধানে সৌদি আরবে যান। তাঁরা তিনজনই বর্তমানে রিয়াদে কর্মরত।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে কাজ শেষে খাবার খেতে যাওয়ার পথে রিয়াদের বাথা মার্কেট এলাকা থেকে ৮-৯ জনের একটি দল তাঁদের জোর করে তুলে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তাঁদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। পরদিন শুক্রবার সকালে অপহরণকারীরা ভিডিও কলের মাধ্যমে বাংলাদেশে থাকা স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এ সময় অপহৃত তিন প্রবাসীকে নির্যাতনের দৃশ্যও স্বজনদের দেখানো হয় বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
আরও
নিরুপায় হয়ে তিন পরিবারের পক্ষ থেকে কাউছার ও ইসলামের মামা সৌদি আরবপ্রবাসী হাসান মিয়া অপহরণকারীদের দেড় লাখ টাকা দেন। পাশাপাশি বিষয়টি সৌদি আরবের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসকেও জানানো হয়। অবশেষে অপহরণের প্রায় ২০ ঘণ্টা পর শুক্রবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাতটার দিকে ওই তিন প্রবাসীকে ছেড়ে দেয় চক্রটি।
ঘটনার বর্ণনায় কাউছার ও ইসলামের মা হামিদা বেগম বলেন, সারা দিন তাঁদের নিয়ে পরিবারের সবাই চরম দুশ্চিন্তায় ছিলেন। তাঁর ভাই সৌদি আরব থেকে দেড় লাখ টাকা দেওয়ার পরও অপহরণকারীরা আরও টাকা দাবি করেছিল। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, সন্ধ্যায় তাঁরা ছাড়া পেয়েছেন। অপহৃত মাসুদ মিয়ার স্ত্রী মাহমুদা বেগমও জানান, তাঁর স্বামীর মুঠোফোন থেকে ভিডিও কল করে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করার পাশাপাশি মারধরের দৃশ্যও দেখানো হয়েছিল। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাঞ্ছারামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইয়াছিন জানান, ভুক্তভোগীদের পরিবারের কেউ থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানাননি, তবে স্থানীয় কয়েকজন তাঁর কাছে এ বিষয়ে জানতে চেয়েছিলেন।











