কথায় আছে, পৃথিবীর সবকিছু ভাগ করা গেলেও স্বামীর ভাগ কাউকে দেওয়া যায় না। তবে চিরচেনা এই সামাজিক ধারণাকে সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণ করে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা এলাকায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন রুমা আক্তার নামের এক নারী। নিজের ইচ্ছায় ও স্বামীর পছন্দকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে তিনি নিজেই উদ্যোগী হয়ে স্বামীকে দ্বিতীয় বিয়ে করিয়েছেন। বর্তমানে দুই সতীন মিলে কোনো ধরনের কলহ বা সংঘাত ছাড়াই পরম সৌহার্দ্যে এক অনুকরণীয় সুখের সংসার গড়ে তুলেছেন।
জানা যায়, ২০০৬ সালে কাজের সন্ধানে গাইবান্ধার ঝরা বর্ষা গ্রাম থেকে গাজীপুরে পাড়ি জমিয়েছিলেন আব্দুর রহমান। প্রায় ১৭ বছর আগে পারিবারিকভাবে রুমা আক্তারের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয় এবং দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে তাঁদের দুটি সন্তান রয়েছে। তবে চার বছর আগে আব্দুর রহমান তাঁর স্ত্রীকে জানান যে, নাজনীন সুলতানা নামের আরেক নারীকে তাঁর পছন্দ। স্বামীর এই পছন্দকে সম্মান জানিয়ে বড় স্ত্রী রুমা আক্তার নিজেই কাজী অফিসে গিয়ে নাজনীনের সঙ্গে তাঁর বিয়ে দেন এবং সতীনের মর্যাদা দিয়ে হাসিমুখে ঘরে তুলে নেন। বর্তমানে দ্বিতীয় স্ত্রী নাজনীনের সংসারেও একটি সন্তান রয়েছে।
সাধারণত সমাজের প্রচলিত প্রেক্ষাপটে দুই সতীনের সংসারে সবসময় দ্বন্দ্ব, সংঘাত ও দূরত্বই পরিলক্ষিত হয়। কিন্তু সেই নেতিবাচক ধারণাকে মিথ্যা প্রমাণ করে রুমা ও নাজনীন এক অন্যরকম সম্প্রীতির বন্ধন তৈরি করেছেন। চন্দ্রা হরিণহাটি গ্রামে একই ফ্ল্যাটে আব্দুর রহমানের সঙ্গে বসবাস করা এই দুই স্ত্রী একটি ছাদের নিচে পরম সুখে দিন পার করছেন। এক হাঁড়িতে রান্না করা থেকে শুরু করে ঘরের যাবতীয় কাজ তারা মিলেমিশে সম্পন্ন করেন এবং অবসর সময়ে একসঙ্গে ঘুরতে যাওয়া—সবক্ষেত্রেই তাঁদের দুই বোন বা পরম বন্ধুর মতো দেখা যায়।
আরও
দুই স্ত্রীর এমন পারস্পরিক সম্প্রীতি ও অভাবনীয় বোঝাপড়ায় অত্যন্ত সন্তুষ্ট স্বামী আব্দুর রহমান। তবে এই সুখের সংসার পরিচালনা করতে গিয়ে বাইরের সমাজে তাঁদের কিছু প্রতিকূলতার মুখেও পড়তে হয়েছে। একসঙ্গে তিনজনকে রাস্তায় বের হতে দেখলে সমাজের অনেকেই নানা ধরনের কটূক্তি বা বাজে মন্তব্য করে থাকেন। এসব নেতিবাচক কথায় কান না দিয়ে আব্দুর রহমান মনে করেন, গোপনে অবৈধ সম্পর্ক রাখার চেয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করা অনেক বেশি সম্মানজনক। দুই স্ত্রীকে সমান চোখে দেখা এবং সমান অধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে মানুষের কটাক্ষকে তোয়াক্কা না করে তাঁরা নিজেদের ভালোবাসার এই বন্ধনকে আরও দৃঢ় করেছেন।










