ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিদের ধারাবাহিক হামলায় নিজেদের তেল উৎপাদনে কোনো ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি বলে দাবি করেছে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকো। উল্টো লোহিত সাগরসহ অন্যান্য জলপথে চলমান চরম যুদ্ধাবস্থা ও সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার মধ্যেই চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফা ৪৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আরামকোর প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী আমিন এইচ. নাসের মঙ্গলবার আল-জাজিরাকে নিশ্চিত করেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে তাদের স্থাপনা লক্ষ্য করে হুথিরা যেসব হামলা চালিয়েছে, তা কোম্পানির কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য কোনো ক্ষতি করতে পারেনি। এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে বিশ্বের বৃহত্তম এই তেল কোম্পানিটি প্রায় ৩২ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন ডলার মুনাফা অর্জন করেছে, যার পেছনে মূলত অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত রাসায়নিক পণ্যের চড়া মূল্য প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে।
আরামকোর এই বিপুল মুনাফার খবর এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন খোদ সৌদি আরবের সামষ্টিক অর্থনীতিতে নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। দেশটির সাম্প্রতিক সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দেশটিতে সার্বিক তেল উত্তোলনের পরিমাণ প্রায় ২৪ দশমিক ৭ শতাংশ কমে গেছে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে অর্থনীতিতে, যার ফলে দ্বিতীয় প্রান্তিকে সৌদি আরবের প্রকৃত মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ৪ দশমিক ৮ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক সংকট। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনার জেরে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌচলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ায় বিশ্ব অর্থনীতি চরম চাপের মুখে পড়েছে। কারণ, বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশই এই কৌশলগত নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়ে থাকে।
জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের এই ক্রমবর্ধমান সংকট মোকাবিলায় এরই মধ্যে সামরিক পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে রিয়াদ। গত ৩০ জুলাই সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ভারত মহাসাগর থেকে ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত সামুদ্রিক করিডোরে নৌচলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে একটি নতুন বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা যেভাবে বাব আল-মান্দেব, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরীয় এলাকায় বাণিজ্যিক জাহাজে টানা হামলা চালিয়ে আসছে, তা প্রতিহত করাই এই জোটের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে এবং আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা পুনরুদ্ধারে এই বহুজাতিক উদ্যোগকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।










