সৌদি আরবের আদালত জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রবাসীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও মানবিক একটি রায় ঘোষণা করেছে। আদালতের নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জরুরি অবস্থায় অবৈধ প্রবাসীরাও হাসপাতালে ভর্তি হলে তাদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার সৌদি সরকার বহন করবে। উদ্দেশ্য হলো, আর্থিক অক্ষমতা বা আইনি জটিলতার কারণে কেউ যেন জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন।
আদালত জানায়, জীবনঝুঁকির মুহূর্তে মরু অঞ্চলে বসবাসরত বিপুল সংখ্যক প্রবাসীর চিকিৎসা পাওয়াকে সহজ ও নিরাপদ করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যারা বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই অবস্থান করলেও সংকটাপন্ন পরিস্থিতিতে হাসপাতালে ভর্তি হবেন, তাদের চিকিৎসার সব খরচ সরকারি তহবিল থেকে পরিশোধ করা হবে। ফলে জরুরি চিকিৎসা সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত নিতে হাসপাতালগুলো কোনো আর্থিক দুশ্চিন্তা বা আইনি জটিলতায় পড়বে না।
এ রায়ে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে, হাসপাতাল রোগীকে জরুরি চিকিৎসা প্রদানে সরকারি নির্দেশনা ও নীতি মেনে চললে অবৈধ বসবাসের কারণে রোগীর ওপর কোনো ধরনের আর্থিক জরিমানা আরোপ করা যাবে না। অর্থাৎ, হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করাকে অবৈধ প্রবাসীর বিরুদ্ধে আলাদা শাস্তির কারণ হিসেবে ব্যবহার করা নিষিদ্ধ থাকবে।
আরও
বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌদি আদালতের এই সিদ্ধান্ত প্রবাসীদের মানবাধিকার সুরক্ষায় একটি ইতিবাচক অগ্রগতি। নির্মাণ, গৃহস্থালি, শিল্প ও কৃষিখাতে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক কাজ করায় তাদের মধ্যে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা প্রায়ই দেখা যায়। ফলে অবৈধ প্রবাসীরাও চিকিৎসার নিরাপত্তা ও নিশ্চয়তা পাবেন।
প্রবাসী বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের শ্রমিকদের জন্য এই রায় স্বস্তিদায়ক হিসেবে দেখা হচ্ছে। জীবন ঝুঁকিতে অতিরিক্ত ভয় বা আর্থিক চাপ ছাড়াই চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ায় সিদ্ধান্তটিকে মানবিকতার একটি শক্তিশালী উদাহরণ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে।










