ওমানের শ্রমবাজারে বইছে বড় ধরনের পরিবর্তনের হাওয়া, যা দেশটিতে অবস্থানরত প্রবাসী কর্মীদের জন্য কিছুটা চিন্তার কারণ হতে পারে। স্থানীয় নাগরিকদের কর্মসংস্থানে জোর দিয়ে ওমান সরকার নতুন একটি ‘জাতীয় কর্মসংস্থান নীতি’ চালু করেছে। এই নীতির আওতায় আগামী পাঁচ বছরে তিন লাখ ওমানি নাগরিককে চাকরি দেওয়ার বিশাল লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি বছর অন্তত ৬০ হাজার ওমানি নতুন করে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করবেন। সরকারের এই ‘ওমানাইজেশন’ কর্মযজ্ঞের সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে দেশটিতে কর্মরত বিপুল সংখ্যক প্রবাসী, বিশেষ করে বাংলাদেশিদের ওপর।
সালালাহতে আয়োজিত ‘লেবার ফোরাম’-এর তৃতীয় আসরে শ্রম মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে এই নীতির ঘোষণা দেয়। দিওয়ান অব রয়্যাল কোর্টের উপদেষ্টা শেখ সেলিম বিন মুস্তাহাইল আল মাশানির উপস্থিতিতে শুরু হওয়া এই ফোরাম চলবে আগামী ১৩ আগস্ট পর্যন্ত। একাদশ পঞ্চবার্ষিকী উন্নয়ন পরিকল্পনার অধীনে ২০৩০ সালের মধ্যে এই তিন লাখ চাকরির সুযোগ তৈরি করা হবে।

আরও
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ধোফার প্রদেশের শ্রম মহাপরিচালক থেকে শুরু করে আরব শ্রম সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ওমানের এই নতুন যাত্রার প্রশংসা করেছেন। নতুন নীতিটির মূল উদ্দেশ্য হলো ওমানি নাগরিকদের দক্ষতা বাড়িয়ে তাদের বর্তমান ও ভবিষ্যতের শ্রমবাজারের জন্য প্রস্তুত করা। সরকারের নিজ নাগরিকদের কর্মসংস্থানে এভাবে জোর দেওয়ার অর্থ হলো, আগামী দিনগুলোতে অদক্ষ বা আধা-দক্ষ প্রবাসীদের জন্য কাজের সুযোগ বেশ সংকুচিত হতে পারে। তাই ওমানের মতো প্রতিযোগিতামূলক শ্রমবাজারে টিকে থাকতে হলে প্রবাসী কর্মীদের এখন থেকেই নিজেদের পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন নিয়মকানুন সম্পর্কে আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।









