Long Popup (2)
সর্বশেষ

ওমানে প্রাইভেট কারের ধাক্কায় প্রাণ গেল বাংলাদেশি প্রবাসীর

Images jhj(1)ProbashircityWebPopupUpdate

জীবিকার সন্ধানে তিন বছর আগে ওমানে পাড়ি জমিয়েছিলেন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার তরুণ মোহাম্মদ আরিফ (২৩)। স্বপ্ন ছিল কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার। কিন্তু মর্মান্তিক এক সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর সেই স্বপ্ন চিরতরে নিভে গেছে। গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দিবাগত রাতে ওমানের আল বিদায়া এলাকায় বেপরোয়া একটি প্রাইভেট কারের ধাক্কায় প্রাণ হারান তিনি।

নিহত আরিফের মামা মিনহাজুল আবিদ ওমানে তাঁর সঙ্গেই থাকতেন। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে আল বিদায়া এলাকার গালিল নামক স্থানে এই দুর্ঘটনা ঘটে। বাসার পাশের ডাস্টবিনে আবর্জনা ফেলে ফেরার পথে দ্রুতগতির একটি প্রাইভেট কার আরিফকে সজোরে ধাক্কা দেয়। খবর পেয়ে রয়্যাল ওমান পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় কাবুরা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনাস্থলটি একটি বাইপাস সড়ক। ধারণা করা হচ্ছে, গভীর রাতে কুয়াশার কারণে গাড়ির সামনের কাঁচ আচ্ছন্ন থাকায় চালক পথ দেখতে পাননি। তবে ওমানি ওই গাড়িচালক দুর্ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আরিফের জীবনের শুরু থেকেই ছিল সংগ্রামের। পৃথিবীর আলো দেখার আগেই তাঁর বাবা শফিকুল ইসলাম মারা যান। মায়ের গর্ভে থাকতেই পিতৃহারা হন তিনি। পরে মা অন্যত্র সংসার পাতলে আরিফ বড় হন ফটিকছড়ির দক্ষিণ পাইন্দং গ্রামে নোনাইয়ার বাবার বাড়িতে, নানার স্নেহ–মমতায়। তাঁর পৈতৃক নিবাস মূলত একই উপজেলার ভুজপুরে। মামা মিনহাজুল আবিদ স্মৃতিচারণা করে বলেন, আরিফ অত্যন্ত শান্ত, ভদ্র ও পরিশ্রমী স্বভাবের ছেলে ছিলেন।

বর্তমানে আরিফের মরদেহ ওমানের একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আগামী রোববার (২৮ জুন) দেশটিতে সরকারি অফিস খোলার পর আইনি প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করার কাজ সম্পন্ন করে তাঁর মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা। তরুণ এই প্রবাসীর অকালমৃত্যুতে তাঁর পরিবার ও নিজ এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

আরও দেখুন

whatsappচ্যানেল ফলো করুনProbashircityWebPopupUpdate