এবার নিজস্ব প্রযুক্তি ও মেধা কাজে লাগিয়ে ওমানের ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুতগতির ড্রোন তৈরি করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন দেশটির তরুণ উদ্ভাবক আহমেদ সুলেমান। তাঁর তৈরি করা এই অত্যাধুনিক ড্রোনটি ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটারেরও বেশি গতিতে উড়তে সক্ষম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই উদ্ভাবনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই প্রযুক্তিপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওটিতে ড্রোনটি তৈরির আদ্যোপান্ত তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, সম্পূর্ণ নিজস্ব নকশায় ড্রোনটি তৈরি করেছেন আহমেদ। প্রথমে কম্পিউটারে থ্রিডি মডেলিং সফটওয়্যারের মাধ্যমে বাতাস কেটে দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার উপযোগী নকশা তৈরি করেন তিনি। এরপর অত্যাধুনিক থ্রিডি প্রিন্টারের সাহায্যে নিখুঁতভাবে ড্রোনের মূল কাঠামো ও যন্ত্রাংশগুলো প্রিন্ট করে বের করা হয়। সবশেষে অত্যন্ত নিপুণ হাতে মোটর, সার্কিট বোর্ড, প্রপেলার এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ সংযোজন করে ড্রোনটিকে ওড়ার উপযোগী করে তোলেন এই তরুণ উদ্ভাবক।
ছোটখাটো একটি রকেটের মতো দেখতে এই ড্রোনটির পরীক্ষামূলক উড্ডয়নের দৃশ্যও বেশ রোমাঞ্চকর। ওমানের একটি ফাঁকা মরুভূমির রাস্তার পাশে ড্রোনটি পরীক্ষা করা হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, চোখের ওপর এফপিভি হেডসেট পরে ড্রোনটি নিয়ন্ত্রণ করছেন আহমেদ। মাটি থেকে খাড়াভাবে উড্ডয়নের পর মুহূর্তের মধ্যেই চোখের পলকে আকাশ চিরে তীব্র গতিতে ছুটে যায় ড্রোনটি। হেডসেট ব্যবহারের ফলে দূর থেকেই ড্রোনের ক্যামেরার দৃশ্য সরাসরি দেখতে পাচ্ছিলেন তিনি, যা নির্ভুল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করেছে।
আরও
ড্রোনের ভিডিওটি প্রকাশের পর নেটিজেনরা প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন। অনেকেই বলছেন, ওমানি এই তরুণের মেধা ও উদ্ভাবনী ক্ষমতা সত্যিই অসাধারণ। স্থানীয়রা মনে করছেন, আহমেদ সুলেমানের মতো তরুণ প্রতিভাদের এখন রাষ্ট্রীয়ভাবে সমর্থন ও পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া প্রয়োজন। সঠিক বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা পেলে ভবিষ্যতে এই ধরনের উচ্চগতির ড্রোন নজরদারি, জরুরি উদ্ধারকাজ বা দ্রুত পণ্য পরিবহনের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ও বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।










