ওমানের রাস আল হাদ্দ উপকূল থেকে প্রায় ৮০ নটিক্যাল মাইল দূরে একটি ভারতীয় মালবাহী জাহাজ ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে স্বস্তির খবর হলো, জাহাজটিতে থাকা ১৪ জন ভারতীয় নাবিককেই জীবিত ও নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। গতকাল রোববার (১৪ জুন) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা আনাদোলু এই খবর নিশ্চিত করেছে। এমন এক সময়ে এই দুর্ঘটনা ঘটল, যখন হরমুজ প্রণালিতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং একই অঞ্চলে মার্কিন হামলায় ভারতীয় নাবিকদের হতাহতের ঘটনায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ওমানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ভারতীয় পতাকাবাহী ‘এমএসভি বিরাট ১’ নামের ওই জাহাজটির উদ্ধার অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। জাহাজটির ইঞ্জিন হঠাৎ বিকল হয়ে গেলে নাবিকেরা বাধ্য হয়ে লাইফ র্যাফটে (জীবন রক্ষাকারী নৌযান) আশ্রয় নেন। পরবর্তীতে ওমানের কর্তৃপক্ষ এবং কাছাকাছি থাকা অন্যান্য জাহাজের সমন্বয়ে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে তাঁদের নিরাপদে ‘জাবাল আলি ৯’ নামের আরেকটি জাহাজে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে এই নাবিকেরা মুম্বাইয়ের পথে রয়েছেন। পরে ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব শিপিং নিশ্চিত করে যে ওই মালবাহী জাহাজটি শেষ পর্যন্ত ডুবে গেছে। মেরিন ট্রাফিকের তথ্যমতে, জাহাজটি ভারতীয় পতাকার অধীনে নিবন্ধিত ছিল।
হরমুজ প্রণালিতে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এমন দুর্ঘটনা গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। এর মাত্র এক দিন আগেই ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছিল যে ওমান উপকূলে পালাউয়ের পতাকাবাহী ‘এমটি সেট্টেবেলো’ ট্যাংকারে মার্কিন হামলায় অন্তত তিনজন ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন। ওই হামলার প্রতিবাদে গত শুক্রবার এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কূটনীতিককে তলব করে ভারত কড়া প্রতিবাদ জানায়। উল্লেখ্য, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সম্প্রতি দাবি করেছে যে ইরান থেকে তেল পরিবহনের চেষ্টায় মার্কিন অবরোধ লঙ্ঘনের অভিযোগে তারা এম/টি জলভীর, এম/টি মারিভেক্স ও এম/টি সেট্টেবেলো নামের তিনটি জাহাজকে অচল করে দিয়েছে।











