দীর্ঘ চার বছর পর দেশে ফেরার কথা ছিল। পরিবারের সবার সঙ্গে দেখা হওয়ার আনন্দে আগে থেকেই শুরু করেছিলেন কেনাকাটা। কিন্তু সেই আনন্দ মুহূর্তেই রূপ নিল গভীর বিষাদে। দেশে ফেরার মাত্র কয়েক দিন আগে ওমানের বেরুমি শহরে মর্মান্তিক এক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন শহিদুল ইসলাম (৪৫) নামের এক প্রবাসী বাংলাদেশি। গত শনিবার (৬ জুন) সন্ধ্যায় এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, আগামী শুক্রবার রাতের ফ্লাইটে দেশে ফেরার টিকিট কাটা ছিল শহীদুলের। দীর্ঘদিন পর বাড়ি ফিরবেন বলে মা, বোন ও স্বজনদের কাছে জানতে চেয়েছিলেন কার কী লাগবে। মা খুরশিদা বেগম ছেলের সুস্থভাবে ফিরে আসার আকুতি জানালেও, আদরের একমাত্র ভাগনি মামার কাছে চকলেট আবদার করেছিল। সেই আবদার মেটাতেই নিজের স্পন্সরের কাছ থেকে পাসপোর্ট সংগ্রহ করে পাশের লুলু হাইপারমার্কেটে চকলেট কিনতে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ভাগনির জন্য চকলেট কেনা হলেও সেই চকলেট আর দেশে পৌঁছাল না।
কেনাকাটা শেষে বাসায় ফেরার জন্য সড়কের পাশে অপেক্ষমাণ ছিলেন শহিদুল। এ সময় হঠাৎ একটি বেপরোয়া গতির গাড়ি তাঁকে সজোরে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, ঘাতক গাড়ির চালক একজন মিসরীয় নাগরিক এবং দুর্ঘটনার পরপরই তাঁকে আটক করা হয়েছে। নিহত শহিদুল চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ইছাখালী ইউনিয়নের জমাদার গ্রামের মরহুম মুহাম্মদ মিয়ার ছেলে। ওমানের বেরুমি শহরে তিনি দীর্ঘদিন ধরে একটি টেইলারিংয়ের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন।
আরও
শহীদুলের এমন আকস্মিক মৃত্যুর খবরে পুরো পরিবারে এখন শোকের মাতম চলছে। নিহতের ছোট ভাই আজাদ কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, ভাইয়ের ফেরার খবরে পুরো পরিবারে উৎসবের আমেজ ছিল, কিন্তু এই মর্মান্তিক সংবাদ তাঁদের সব আনন্দ কেড়ে নিয়েছে। ওমানে অবস্থানরত তাঁর মামা আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, শহীদুলের মরদেহ বর্তমানে বেরুমি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ওমান পুলিশের প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে যত দ্রুত সম্ভব মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।








