ওমানের কালহাত এলাকায় মর্মান্তিক এক সড়ক দুর্ঘটনায় সাখাওয়াত হোসেন সাজু (২৬) নামের এক প্রবাসী বাংলাদেশি যুবকের প্রাণহানি ঘটেছে। পবিত্র ঈদের ছুটিতে বেড়াতে গিয়ে গত শুক্রবার স্থানীয় সময় বেলা ১১টার দিকে দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। নিহত সাখাওয়াত চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার মগধরা ইউনিয়নের আবদুল ওহাব সওদাগরের বাড়ির আবদুল হাই ও নূর জাহানের ছেলে। এ ঘটনায় তাঁর সঙ্গে থাকা তৌহিদ নামের অপর এক বাংলাদেশি বন্ধুও গুরুতর আহত হয়েছেন।
জানা গেছে, ঈদের ছুটি উদ্যাপন করতে সাখাওয়াত ও তাঁর বন্ধু তৌহিদ একসঙ্গে ঘুরতে বেরিয়েছিলেন। পথে ওমানের কালহাত এলাকায় পৌঁছালে তাঁরা এই ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার মুখে পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই সাখাওয়াতের মৃত্যু হয়। তবে ঠিক কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। গুরুতর আহত তৌহিদকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং সাখাওয়াতের মরদেহ বর্তমানে ওমান পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।
জীবিকার তাগিদে দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে ওমানের সুর অঞ্চলের একটি রেস্তোরাঁয় কাজ করতেন সাখাওয়াত। দুই বোন ও তিন ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন তিনি। গত বছর ছুটিতে দেশে এসে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এই যুবক। বিয়ের কিছুদিন পর তিনি পুনরায় ওমানে পাড়ি জমান। প্রবাসে থাকা অবস্থায় কিছুদিন আগে তিনি প্রথমবারের মতো বাবা হওয়ার সুখবর পান। কিন্তু ভাগ্যের এমন নির্মম পরিহাস, দূর প্রবাসে অকালে প্রাণ হারানোয় নিজের সদ্যোজাত সন্তানের মুখটি আর সরাসরি দেখা হলো না তাঁর।
আরও
তরতাজা যুবকের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো পরিবারে এখন শোকের মাতম চলছে। নিহতের বড় ভাই আহসান ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রশাসনের কোনো পর্যায় থেকে কেউ আমাদের খোঁজ নেয়নি। আমরা দ্রুত ভাইয়ের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের কাছে জোর দাবি ও সহযোগিতা চাই।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমজাদ হোসেন প্রবাসী এই যুবকের মৃত্যুতে গভীর শোক ও পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, সাখাওয়াতের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সব ধরনের দাপ্তরিক সহযোগিতা করা হবে। পাশাপাশি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী লাশ দাফন ও নিহতের পরিবারকে আর্থিক অনুদান দেওয়ার বিষয়টিও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেখা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।









