হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর মার্কিন তৎপরতার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মন্ত্রিসভার এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ওমান যদি অন্যান্য দেশের মতো সঠিক আচরণ করতে ব্যর্থ হয়, তবে তাদের ‘উড়িয়ে দেওয়া’ হবে। মূলত ইরান ও ওমানের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে যৌথ টোল আরোপের আলোচনার খবরের প্রেক্ষিতেই ট্রাম্প এমন চরমপত্র দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানা যায়, প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর টোল বসাতে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ ওমানের সমর্থন চাইছে তেহরান। এ প্রসঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, ওই অঞ্চলটি আন্তর্জাতিক জলসীমার অংশ, তাই কেউ এককভাবে এটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। মঙ্গলবার (২৬ মে) দেওয়া এক ঘোষণায় তিনি জোর দিয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং যুক্তরাষ্ট্র এর সার্বিক তদারকি ও নজরদারি নিশ্চিত করবে। একইসঙ্গে ওমান পরিস্থিতি বুঝতে পেরে সঠিক অবস্থানে থাকবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বিশ্বের মোট খনিজ তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত শুরুর পর গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি অবরুদ্ধ করে রেখেছে তেহরান। দীর্ঘ সময় ধরে কৌশলগত এই পথটি কার্যত বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছে।
আরও
এদিকে, উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে ইরানের সঙ্গে একটি শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ট্রাম্প, যদিও তা এখনো আলোর মুখ দেখেনি। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্টের অভিযোগ—তেহরান ইচ্ছাকৃতভাবে চুক্তির বিষয়টি প্রলম্বিত করছে। আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত তারা ওয়াশিংটনকে কেবল অপেক্ষাতেই রাখতে চাইছে বলে মনে করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।







