ওমানের মাস্কাট প্রদেশে সাধারণ মানুষের চোখে ধুলো দিয়ে ভিক্ষাবৃত্তির আড়ালে দুর্ধর্ষ চুরির কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল একদল আরব প্রবাসী নারী। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর রয়্যাল ওমান পুলিশ এই অপরাধী চক্রটিকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। বুধবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে পুলিশ জানায়, এই চক্রটি মাস্কাটের বিভিন্ন বিলাসবহুল আবাসিক এলাকায় ধারাবাহিক চুরির সাথে জড়িত ছিল। তাদের গ্রেপ্তারের খবরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে ।
তদন্তকারীদের দেওয়া তথ্যমতে, এই নারী গ্যাংটি অত্যন্ত সুকৌশলে তাদের ছদ্মবেশ ব্যবহার করত। তারা মূলত ‘পেশাদার ভিক্ষুক’ সেজে বিভিন্ন বাড়ির সামনে যেত এবং কৌশলে বাড়ির ভেতর ও আশপাশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করত। ভিক্ষা দেওয়ার ছলে যখন বাড়ির বাসিন্দারা তাদের সাথে কথা বলতেন, তখন তারা সুকৌশলে বাড়ির দুর্বল জায়গাগুলো চিহ্নিত করে রাখত। এরপর সুযোগ বুঝে তারা ওইসব বাড়িতে হানা দিয়ে মূল্যবান মালামাল লুট করে চম্পট দিত। ছদ্মবেশের কারণে প্রতিবেশী বা নিরাপত্তা রক্ষীদের মনেও সহজে কোনো সন্দেহের উদ্রেক হতো না।
নিখুঁত গোয়েন্দা নজরদারি এবং বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে অবশেষে এই চক্রের সকল সদস্যকে শনাক্ত করে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। রয়্যাল ওমান পুলিশ এই ঘটনার পর নাগরিকদের আরও সচেতন হওয়ার এবং সন্দেহভাজন কাউকে দেখলে দ্রুত জানানোর পরামর্শ দিয়েছে। আবাসিক এলাকার নিরাপত্তা সুসংহত রাখতে এবং এ ধরনের প্রতারণামূলক অপরাধ নির্মূল করতে পুলিশ তাদের গোয়েন্দা তৎপরতা ও টহল আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে।









