জীবিকার তাগিদে ওমানে পাড়ি জমানো কচুয়ার সন্তান কামরুল ইসলাম বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ হয়ে সেদেশের একটি হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন। উন্নত চিকিৎসা বা দেশে ফিরিয়ে আনার মতো আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় চরম অসহায় অবস্থায় দিন পার করছে তাঁর পরিবার। প্রিয় সন্তানকে দেশে ফিরিয়ে এনে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন তাঁর অসহায় বাবা-মাসহ পরিবারের সদস্যরা। প্রবাসীর এমন সংকটাপন্ন অবস্থার খবরে তাঁর নিজ গ্রাম ও পুরো এলাকাজুড়ে এক আবেগঘন ও শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে ২০১৭ সালে ওমানে পাড়ি জমিয়েছিলেন কামরুল ইসলাম। প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করে তিনি পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি ওমানের মাস্কাটে কর্মরত অবস্থায় হঠাৎ করেই তাঁর নাক ও মুখ দিয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হয়। সহকর্মীরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন হলেও কেবল অর্থের অভাবে সেখানে তাঁর প্রয়োজনীয় উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা বা তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনা কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে প্রবাসে ছেলের এমন আকস্মিক ও গুরুতর অসুস্থতার খবর পেয়ে মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছেন কামরুলের বৃদ্ধ বাবা-মা। সীমাহীন হতাশা ও দুশ্চিন্তায় তাঁদের দিন কাটছে। অন্যদিকে, প্রিয় মানুষটিকে সুস্থ অবস্থায় ফিরে পাওয়ার আশায় প্রহর গুনছেন তাঁর স্ত্রী ও সন্তানেরা, যারা এখন চরম অনিশ্চয়তা নিয়ে একপ্রকার মানবেতর জীবনযাপন করছেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির এমন করুণ পরিণতিতে আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের মাঝেও নেমে এসেছে গভীর শোক ও হতাশা।
আরও
ছেলের চিকিৎসায় নিরুপায় হয়ে বাবা মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, “বর্তমানে অর্থের অভাবে ওমানে আমার ছেলের উন্নত চিকিৎসা ও দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে না।” এই অবস্থায় পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনিক উদ্যোগ গ্রহণ করে মানবিক বিবেচনায় কামরুলকে দেশে ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানিয়েছেন। তাঁকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে পরিবারের পাশে রেখে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে তাঁরা স্থানীয় সংসদ সদস্য ও শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনসহ প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।











