ওমানের রাজধানী মাস্কাটে মর্মান্তিক এক সড়ক দুর্ঘটনায় মোহাম্মদ মহসিন (২৯) নামের এক রেমিট্যান্সযোদ্ধা নিহত হয়েছেন। নিহত মহসিন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পারুয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাহেদ আলী বাড়ির নুরুল আলমের ছেলে। পরিবারের সচ্ছলতা ফেরানোর আশায় প্রবাসে পাড়ি জমানো এই যুবকের অকাল মৃত্যুতে তাঁর নিজ এলাকা ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
জানা যায়, মোহাম্মদ মহসিন গত ১ মে মাস্কাটের আল খয়ের এলাকায় নিজের কাজ শেষে একটি ব্যাটারিচালিত মোটরসাইকেলে করে বাসায় ফিরছিলেন। পথিমধ্যে হঠাৎ মোটরসাইকেলটি বিকল হয়ে গেলে তিনি রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে সেটি ঠিক করার চেষ্টা করছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে পেছন দিক থেকে ছুটে আসা একটি দ্রুতগতির গাড়ি তাঁকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে মহসিন রাস্তার পাশে ছিটকে পড়েন এবং তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক জখম হয়।
আরও
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন তাঁকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত মাস্কাটের খৌলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকা অবস্থায় টানা ছয় দিন তিনি মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়েন। অবশেষে চিকিৎসকদের সব চেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়ে গত বুধবার (৬ মে) বাংলাদেশ সময় রাত ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন এই বাংলাদেশি যুবক।
মহসিনের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে দেশে থাকা তাঁর পরিবারে চলছে শোকের মাতম। নিহত যুবকের চাচাতো ভাই রাহাত চৌধুরী আক্ষেপ করে জানান, মাত্র আট মাস আগে জান্নাতুল নাঈম নামের এক তরুণীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন মহসিন। বিয়ের কয়েক মাস পরই নতুন সংসারের স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে তিনি আবার প্রবাসের কর্মস্থলে ফিরে যান। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই তাঁর এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। কিছুদিন আগেও পরিবারের সুখের জন্য প্রবাসে হাড়ভাঙা খাটুনি করা মানুষটি আজ নিথর দেহ হয়ে দেশে ফিরবেন, তা কেউ বিশ্বাসই করতে পারছেন না।









