ওমান থেকে প্রিয় স্বজনদের কাছে ফেরার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিলেন চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ হাজীপাড়ার বাসিন্দা মো. বেলাল (৫৫)। কিন্তু সেই আনন্দঘন যাত্রাই যে তাঁর জীবনের শেষ যাত্রায় পরিণত হবে, তা কেউ ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেনি। মঙ্গলবার রাতে ওমানের মাস্কাট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইটের জন্য অপেক্ষারত অবস্থায় হঠাৎ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন দীর্ঘদিনের এই প্রবাসী। তাঁর এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্থানীয় প্রবাসী কমিউনিটিতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পারিবারিক ও বিমানবন্দর সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ২টা ১৫ মিনিটে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে বেলালের দেশে ফেরার কথা ছিল। পরিবারের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে দেশে আসার আগে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় স্ত্রী-সন্তানের সঙ্গে ফোনে শেষবারের মতো কথাও বলেছিলেন তিনি। কিন্তু মাস্কাট বিমানবন্দরে পৌঁছে বোর্ডিং পাস নেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় হঠাৎ সবার চোখের সামনে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং মুহূর্তের মধ্যেই তাঁর জীবনপ্রদীপ নিভে যায়।
নিহত বেলাল দীর্ঘদিন ধরে ওমানের সোহার সিটিতে ফার্নিচার বা আসবাবপত্রের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং প্রতি বছরই তিনি দেশে আসতেন। বেলালের ভাগনে আজাদ জানান, তাঁর মামা সম্পূর্ণ সুস্থ-সবল ছিলেন এবং তাঁর শরীরে কোনো ধরনের অসুস্থতার লক্ষণ ছিল না। হঠাৎ করে এমন একটি মর্মান্তিক ঘটনা তাঁদের পরিবার কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না। মৃত্যুকালে বেলাল এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন, যাঁদের দীর্ঘ প্রতীক্ষা এখন শুধুই বাবার নিথর মরদেহের জন্য।
আরও
মর্মান্তিক এই ঘটনায় ওমানপ্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও গভীর শোকাবহ পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ সোশ্যাল ক্লাব ওমানের চেয়ারম্যান আজিম উল হক বাবুল গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, মানুষের মৃত্যু কখন এসে ধরা দেয়, তা সত্যিই কেউ বলতে পারে না; বেলাল ভাই ওমান কমিউনিটির একজন অত্যন্ত পরিচিত মুখ ছিলেন। এদিকে ওমানস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, নিহতের মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু করা হয়েছে। প্রবাস জীবনের দীর্ঘ সংগ্রাম শেষে আপনজনের কাছে ফেরার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে যাত্রা শুরু করা বেলালের এই ফেরা আর হলো না।









