ওমানে কর্মরত প্রবাসীদের জন্য কর্মক্ষেত্রে ‘পলাতক’ রিপোর্ট একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। অনেক সময় ভুল বোঝাবুঝি বা বিরোধের জেরে নিয়োগদাতারা কর্মীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের রিপোর্ট করে দেন। নিয়মানুযায়ী, এই প্রক্রিয়ায় প্রবাসী কর্মীদের দেশে ফেরানোর জন্য বিমান ভাড়ার সমপরিমাণ অর্থ নিয়োগদাতাকে মন্ত্রণালয়ে জমা রাখতে হয়। এবার সেই জমা রাখা টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে নতুন একটি সুবিধার কথা ঘোষণা করেছে ওমানের শ্রম মন্ত্রণালয়।
নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, প্রবাসীদের জন্য সবচেয়ে স্বস্তির জায়গাটি হলো তাদের অভিযোগ জানানোর সুযোগ। কোনো কর্মীর বিরুদ্ধে যদি অন্যায়ভাবে বা ভুলবশত কর্মস্থল ত্যাগের রিপোর্ট করা হয় এবং সেই প্রবাসী যদি মন্ত্রণালয়ের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ বা আপিল দায়ের করেন, তবে সেটি সমাধানের পথ এখন আরও সুনির্দিষ্ট। কর্মীর সেই আপিল যদি মন্ত্রণালয়ের সিস্টেমে যাচাই-বাছাই শেষে ‘অনুমোদিত’ হয়, তবে নিয়োগদাতা তার জমা করা অব্যবহৃত অর্থ ফেরত পাবেন। এর ফলে মিথ্যা বা হয়রানিমূলক রিপোর্টের ক্ষেত্রে প্রবাসী কর্মীদের আপিল করে নিজেদের অবস্থান প্রমাণের আইনি প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ হলো। পাশাপাশি, কোনো নিয়োগদাতা যদি নিজ উদ্যোগে কোনো কর্মীর পলাতক হওয়ার রিপোর্ট বাতিলের আবেদন করেন এবং মন্ত্রণালয় সেটি অনুমোদন করে, তাহলেও তিনি টিকিটের টাকা ফেরত পাবেন।
এছাড়া অনেক প্রবাসী কর্মী আইনি জটিলতা শেষে সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে টিকিট কেটে দেশে ফিরে যান। শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কোনো প্রবাসী যদি সম্পূর্ণ নিজের খরচে ওমান ত্যাগ করেন এবং সিস্টেম অনুযায়ী তার ওয়ার্ক পারমিট বা কাজের অনুমতি যদি আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বাতিল’ হয়ে যায়, তবে ওই কর্মীর নামে জমা থাকা টিকিটের টাকা নিয়োগদাতাকে ফেরত দেওয়া হবে। অর্থাৎ, কর্মীর দেশে ফেরার ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের তহবিলের টাকা ব্যবহার না হলে তা আর আটকে থাকবে না।
আরও
এর বাইরে আইনি সময়সীমার একটি শর্তও রাখা হয়েছে। পলাতক রিপোর্টের পর যদি চার বছর পার হয়ে যায় এবং সেই অর্থ যদি মন্ত্রণালয়ের তহবিলে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকে, তবে নিয়োগদাতা তা ফেরত চাইতে পারবেন। তবে এই আবেদন কোনোভাবেই রিপোর্ট হওয়ার নয় বছরের বেশি সময় পার হওয়ার পর করা যাবে না।











