চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার হিংঙ্গুলী ইউনিয়নে প্রবাসী জহুরুল হকের বিরুদ্ধে এতিমের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি আবিষ্কৃত হয়েছে মরহুম জাহাঙ্গীর আলম আকাশের পরিবারকে কেন্দ্র করে। ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ওমান প্রবাসী জাহাঙ্গীর একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। তিনি স্ত্রী ও দুই বছরের সন্তানসহ বৃদ্ধা বাবা-মায়ের ভরসা ছিলেন। তার মৃত্যুর পর পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, জাহাঙ্গীরের পরিবার দীর্ঘ ৮ বছর হিংঙ্গুলী ইউনিয়নের মেহেদী নগরের ইদ্রিস ভবনে ভাড়া বাসায় থাকতেন। এ কারণে বাসার মালিক প্রবাসী জহুরুল হকের সঙ্গে তাদের ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দুর্ঘটনার পর ওমানের আইন অনুযায়ী গাড়ির ইন্সুরেন্স বাবদ ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দিয়ে জহুরুল হক পরিবারের কাছ থেকে আমুক্তার নামা গ্রহণ করেন।
ওমান সরকারের দেয়া গাড়ি জরিমানা ও ক্ষতিপূরণ বাবদ ৮,২১০ ওমানি রিয়াল (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২৬ লক্ষ টাকা) জহুরুল হক দেশে আনার পরই জাহাঙ্গীরের পরিবারের সঙ্গে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। পরিবার টাকা নিতে চাইলে জহুরুল হক খারাপ ব্যবহার এবং হুমকি ধমকি দিয়ে বাসা ছাড়তে বলে, এছাড়া মাত্র ৩ লক্ষ টাকা দেওয়ার কথাও জানায়।
আরও
মরহুম জাহাঙ্গীরের পিতা মোহাম্মদ শফি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং: সি,আর ৩১১/২০২৫) এবং হুমকি ও চাপের কারণে পরিবার তাদের বাসা ছেড়ে একই এলাকার বুলু সর্দারের বাড়িতে ভাড়া নেন। শফি অভিযোগ করেন, “ছেলের মৃত্যুর পর আমার নাতি ও ছেলের স্ত্রীসহ মানবেতর জীবনযাপন করছি। জহুরুল হকের এমন আচরণ আমরা কল্পনাও করিনি। আল্লাহ তার বিচার করবেন।”
অভিযুক্ত জহুরুল হক নিজের বক্তব্যে জানান, তিনি ওই টাকা নেওয়ার জন্য কাজ করেছেন এবং ২২ লক্ষ টাকা পান। এর মধ্যে দেশীয় খরচ ১১ লক্ষ টাকা, আর বাকি ১১ লক্ষের মধ্যে ৪ লক্ষ তার খরচ বাদে ৭ লক্ষ টাকা দিতে চেয়েছিলেন। তবে পরিবার তা নেয়ার পরিবর্তে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।











